
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা সড়ক সেতু ও দেশের তৃতীয় বৃহত্তম তিস্তা রেল সেতু এলাকায় ঈদুল আজহার ৫ম দিনেও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দিন মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও পরদিন শুক্রবার থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে বিনোদনপ্রেমী মানুষের ঢল নামে সেতু ও নদীপাড় এলাকায়। শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও নির্মল বাতাসে সময় কাটাতে ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন কাউনিয়ার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র তিস্তা সেতু এলাকায়।
ঈদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী খাবার, খেলনা ও প্রসাধনীর দোকানগুলোতেও ছিল ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়। দর্শনার্থীরা নদীপাড়ে হাঁটাহাঁটি, জেলেদের মাছ ধরা, পানকৌড়ি ও সাদা বকের উড়াউড়ি দেখা এবং নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে আনন্দঘন সময় কাটান। পাশাপাশি অবস্থিত রেল ও সড়ক সেতু দুটির মনোরম পরিবেশ এ এলাকাকে বিনোদন প্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে তিস্তা সড়ক সেতুর ওপর অনেক দর্শনার্থী অবস্থান করায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও দায়িত্ব পালনে কিছুটা শিথিলতা দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সেতু এলাকায় ঘুরতে আসা নুর আমিন বলেন, “কাউনিয়ায় বিনোদনের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো স্থান না থাকায় বিভিন্ন উৎসবে মানুষ এখানে ছুটে আসে। অপর জন আলাউদ্দিন জানান, রংপুরের জেলা প্রশাসক কাউনিয়ায় মতবিনিময় কালে একটি শিশু বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের আশ্বাস দিলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয় নি। তিস্তা সেতুর দক্ষিণ পাড় কাউনিয়া প্রান্তে পর্যটন শিল্পের আওতায় একটি হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা হলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং মানুষও উন্নত বিনোদন সুবিধা পাবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতা জানান, শিশু বিনোদন কেন্দ্র নির্মানের প্রকল্প চলমান রয়েছে, অনুমোদন হলেই আশা করছি কাজ শুরু হবে। স্থানীয়দের মতে, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা, পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন উৎসবে তিস্তা সড়ক ও রেল সেতু এলাকা উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution