
সুমিষ্ট হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্মস্থান রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায়। আঁশ বিহীন এই আমের সুখ্যাতী রয়েছে দেশজুড়ে। জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙ্গা আম এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। চলতি মৌসুমের শুরুতে আমের মুকুল চাষীদের আশার আলো দেখালেও বৈরী আবহাওয়া আর কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে বাগান মালিক ও আমচাষীদের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। তবে শেষ দিকে এসে বাগানে আম কম থাকলেও চাহিদা থাকায় ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে বেশ আশাবাদী কৃষকরা। আম বিক্রির জন্য নির্ধারিত সময়ে ভালো দাম থাকায় বাগান মালিক ও আম চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। শেষ পর্যন্ত হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাহিদা ও দাম ঠিক থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে উঠার সম্ভাবনা দেখছেন চাষীরা।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানী গ্রামে হাঁড়িভাঙ্গা আমের মাতৃগাছটি আজও দাড়িয়ে আছে। যে গাছ থেকে কলম করে হাজার হাজার গাছের জন্ম। হাঁড়িভাঙ্গা আমের নাম অবশ্য শুরুতে হাঁড়িভাঙ্গা ছিল না। এ আমের আবিষ্কারক হিসেবে স্থানীয়ভাবে নফল উদ্দিন পাইকারকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন এক বৃক্ষপ্রেমিক। তার হাত ধরেই তেকানী গ্রামে হাঁড়িভাঙার গোড়াপত্তন। যদিও এর আদি নাম মালদিয়া। বৃক্ষপ্রেমী নফল উদ্দিন পাইকার বেঁচে নেই। আছে তার শক্ত মাটির উপরে দাঁড়িয়ে থাকা সুমিষ্ট হাঁড়িভাঙ্গার খ্যাতি। পেয়েছে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের (জিআই) স্বীকৃতি।
আগামী ১৫ জুন মিঠাপুকুর উপজেলার বিখ্যাত আমেরহাট পদাগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত করণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, বিশেষ অতিথি রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: সিরাজুল ইসলাম ও মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ পারভেজ এবং উপজেলা কৃষি অফিসার লোকমান হেকিম সহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে শুধু মিঠাপুকুর উপজেলায় ১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে ৪ হাজার ৭৫টি হাঁড়িভাঙা আমের বাগান আছে। যার সাম্ভব্য বিক্রয়মূল্য ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা। রংপুর জেলাজুড়ে সবমিলিয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি মোসাব্বির বকসি জানান, তিনি ৮ একর জমিতে আমের চাষ করেছেন। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে আমের ভালো দাম থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে লাভের আশা করছেন তিনি। স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক বড় বড় পার্টি ইতোমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছেন। তিনি আশা করছেন এবার আমের দাম ও চাহিদা দু’টোই সন্তোষজনক হবে।
মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম বলেন, মিঠাপুকুরে প্রতিবছর হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বাড়ছে। লাভ বেশি হওয়ায় লোকজন ধানি জমিতে আমের বাগান করছেন। গত বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছে। এ বছর শুধু মিঠাপুকুরেই ১২০ কোটি টাকার বেশি হাঁড়িভাঙা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সবমিলে রংপুর জেলায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, সব মাটিতে এ আমের চাষ করা যায়। তবে এঁটেল ও দো-আঁশ মাটি এই আম চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution