
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কোটি টাকার হাটের রাস্তার বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জোড়গাছ হাটের খাস খাজনা আদায়ে নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২কোটি ৬লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ইজারা দেয়া হয় যা ভ্যাট ট্যাক্সসহ ২ কোটি ৭৮ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭৫০ টাকা। ইজারাদার হিসাবে সর্বোচ্চ দর ডেকে হাটটি নেন জোড়গাছ বাজারের ব্যবসায়ী মাইদুল ইসলাম। ওই হাটের প্রবেশদ্বার একমাত্র পাকা রাস্তাসহ সকল রাস্তা-ঘাট কাঁদা, পানি আর ময়লায় বেহাল দশা।
জানা গেছে, হাট বাজার ইজারা বা নিলাম থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ সরকারের কোষাগারে জমা হয় এবং বাকী অর্থ স্থানীয় হাট বাজারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন খাতে ব্যয় করার কথা। অথচ উপজেলার রমনা ইউনিয়নের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী বাজার জোড়গাছহাটে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নমূলক কোন কাজ না হওয়ার হাটটির রাস্তা-ঘাটসহ পুরো হাটের বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী জোড়গাছ পুরাতন বাজার হাটটি প্রতিবছর বাংলা সনের শুরুতে নানা উৎসাহ-উদ্দিপনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রতিযোগীতার মাধ্যমে নিলামে ডাক হয়।
ডাকের মাধ্যমের সর্বোচ্চ দরদাতার নামে এক বছরের জন্য নিলাম দেয়া হয় হাটটি। নিয়মানুযায়ী চলতি ১৪৩৩বঙ্গাব্দে ঐতিহ্যবাহী ওই হাটটি ভ্যাট ট্যাক্সসহ ২কোটি ৭৮লক্ষ ৩৪হাজার ৭৫০ টাকায় ইজারা নেন জোড়গাছ বাজারের ব্যবসায়ী মাইদুল ইসলাম। বর্তমানে বাজারের প্রবেশদ্বার একমাত্র পাকা রাস্তাটিসহ সব রাস্তা ঘাটে কাঁদা,পানি আর ময়লায় বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জোড়গাছ পুরাতন বাজারের প্রবেশদ্বার একমাত্র পাকা রাস্তাটি বাজারের সকল রাস্তা-ঘাটে কাঁদা, পানি ও ময়লা জমে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে।
পাকা রাস্তাটির দুই ধারে দোকান মাঝে কর্দমাক্ত পাকা রাস্তা যা চলার উপযোগীতা হারিয়ে ফেলেছে।কাঁদার মধ্যে সারিবদ্ধভাবে চলছে বিভিন্ন যানবাহন আর দুই ধারে দোকানের দরজা দিয়ে ঠেলা-ঠেলি করে হেটে চলছে পথচারী নারি-পুরুষরা। এসময় সাদেক হোসেন , সোহেল আহমেদ, মনজু মিয়াসহ অনেকে জানান, এটি পাকা রাস্তা অথচ কাঁদা আর পানি দিয়ে বেহাল দশা। উপজেলার একমাত্র বড় হাট এটি, এই হাটে নিলাম ডাক হয়েছে প্রায় ৩কোটি টাকা অথচ রাস্তা দিয়ে মানুষ বাজারে যেতে পারে না। এটি কার দায়িত্ব? এ প্রতিনিধিকে ছবি তুলতে দেখে এমন প্রশ্ন করেন তারা।
এ বিষয়ে হাট ইজারাদার মো.মাইদুল ইসলাম বলেন, ভ্যাট ট্যাক্সসহ ২কোটি ৭৮লক্ষ ৩৪হাজার ৭৫০ টাকায় হাটটি ইজারা নেয়া হয়েছে। রাস্তা-ঘাটের আরও খারাপ অবস্থা ছিল, হাট ইজারা নেয়ার পর আমি নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ লক্ষ ২২ হাজার টাকা ব্যয় করে একটু চলারমত করেছি। রাস্তা-ঘাট,হাট সেটসহ হাটের উন্নয়ন না করা হলে আমি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারি। তাই হাটটির বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তিনি। চিলমারী উপজেলা নিবার্হী অফিসার ইউএনও মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, রাস্তাটির বেহাল দশা আমি দেখেছি। রাস্তার কাজ করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এলজিইডি অফিসকে এস্টিমেট করার জন্যও বলা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution