
বিশ্বকাপের মাঠে ম্যাচ শুরুর আগে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের বিশাল আকৃতির জাতীয় পতাকা সবুজ গালিচায় বিছিয়ে দেওয়াই ফিফার চিরচেনা নিয়ম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে স্পেন ও সৌদি আরবের মধ্যকার ম্যাচ শুরুর আগে দেখা গেল এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক দৃশ্য। প্রথা ভেঙে মাঠের সবুজ ঘাস স্পর্শ করল না কোনো দেশের পতাকা; বরং ফিফার স্বেচ্ছাসেবকরা পরম শ্রদ্ধায় দুই দেশের পতাকাকে হাত দিয়ে উঁচিয়ে ধরে রাখলেন আকাশের পানে।
মূলত সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা কেবল একটি রাষ্ট্রের প্রতীকই নয়, এটি মুসলিম বিশ্বের গভীর ধর্মীয় আবেগের সাথে যুক্ত। সবুজ পটভূমির ওপর সাদা অক্ষরে খচিত পবিত্র ‘কালেমা তৈয়বা’ এবং তার নিচে বীরত্বের প্রতীক একটি তলোয়ার নিয়ে গঠিত এই পতাকা। ধর্মীয় পবিত্রতা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী, সৌদির পতাকা মাটি, পানি কিংবা কোনো নিচু স্থানে স্পর্শ করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি কোনো জাতীয় শোকের দিনেও এই পতাকা অর্ধনমিত করার নিয়ম নেই।
বিশ্বকাপের নতুন প্রোটোকল অনুযায়ী মাঠের মাঝখানে বড় পতাকা বিছিয়ে দেওয়ার নিয়ম করা হলে, সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশন ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টি তুলে ধরে ফিফার কাছে আপত্তি জানায়। ফিফা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় আবেগকে বিবেচনা করে তাদের পূর্বনির্ধারিত ম্যাচ-ডে প্রোটোকল পরিবর্তন করতে রাজি হয়। তবে শুধু সৌদি আরবের পতাকা উঁচিয়ে ধরে প্রতিপক্ষ স্পেনের পতাকা মাটিতে রাখলে তা বৈষম্যমূলক দেখাত।
তাই সমতা ও সমান সম্মান বজায় রাখতে ফিফা সিদ্ধান্ত নেয়, সৌদি আরবের পাশাপাশি স্পেনের জাতীয় পতাকাও একইভাবে স্বেচ্ছাসেবকরা হাতে উঁচু করে ধরে রাখবেন। ফুটবল মাঠে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানানোর ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়; এর আগেও ইরাকের জাতীয় পতাকায় ‘আল্লাহু আকবার’ লেখা থাকার কারণে একইভাবে ম্যাচ-ডে প্রোটোকল পরিবর্তন করেছিল ফিফা। আটলান্টার মাঠের এই অনন্য দৃশ্যটি প্রমাণ করল, ফুটবল কেবল একটি খেলাই নয়, এটি বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্ম এবং বিশ্বাসের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক পরম মঞ্চ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution