অভিযোগকারী চীনা নাগরিক আন হংওয়েই দাবি করেছেন, তার স্ত্রী মোর্শেদা খাতুন প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার মার্কিন ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে উদাও হন।
সোমবার বিকেলে স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের খোঁজে চীনা নাগরিক আন হংওয়েই তার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সহায়তায় তিনি ফুলবাড়ী থানায় উপস্থিত হয়ে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানাতে সোমবার (২২ জুন) রাতে ফুলবাড়ী থানায় যান আন হংওয়েই। তবে ঘটনার স্থান ঢাকার সাভার হওয়ায় পুলিশ তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেন ও শাহেরা বেগম দম্পতির মেয়ে মোর্শেদা বেগম (২৬) প্রায় ১০ বছর আগে একই এলাকার দিনমজুর আবুল গহুরের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
তাদের সংসারে বর্তমানে ৮ বছর বয়সী এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসের পর পারিবারিক নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে
মোর্শেদা বেগম ঢাকার একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরিরত অবস্থায় চীনা নাগরিক আন হংওয়েইর সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং গত ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর চীনা স্বামীকে নিয়ে গ্রামে এলে তাকে দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে এলাকায়।
মোর্শেদার প্রথম স্বামী আব্দুল গহুর অভিযোগ করেন, সামান্য পারিবারিক বিরোধের জেরে মোর্শেদা তাকে ও তাদের ছোট কন্যা সন্তানকে ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে নানা অজুহাতে তার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আব্দুল গহুর বলেন, “সে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নিয়েছে। এমনকি বাড়িতে আসার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার পরও আর ফেরেনি। এখন আবার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার বিভিন্ন চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, চীনা নাগরিককে বিয়ে করার পরও মোর্শেদা তার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন এবং পরবর্তীতে চীনা স্বামীর কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে শুনেছেন।
এদিকে ঢাকায় অবস্থানরত মোর্শেদার এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চীনা নাগরিককে বিয়ের পর তার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ নিয়েছিলেন মোর্শেদা। পরে পূর্বপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিনি চাকরি পরিবর্তন করেন এবং ওই যুবককে বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে মোর্শেদা জানান, প্রথম স্বামী খুবই গরীব। তাই তাকে বাদ দিয়ে চীনা নাগরিককে বিয়ে করেন। কিন্তু এখন আবার চীনা স্বামীকে না জানিয়ে আবার বিয়ে করেন বিষয়টি অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা।
ধর্মপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফেরদৌস ইসলাম বলেন, “প্রথম স্বামী ও সন্তানকে রেখে মোর্শেদা চীনা নাগরিককে বিয়ে করেছিলেন। তখন ধারণা ছিল হয়তো তিনি প্রতারণার শিকার হবেন। এখন উল্টো অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তবে কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। পরপর দুই স্বামীকে ছেড়ে আবার বিয়ে করা নিন্দনীয়।
চীনা স্বামীকে ঢাকা থেকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসার সময় মোর্শেদা বেগম জানান, তার সাথে অল্প কয়েকদিন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এরপর সে আমাকে চীনা নিয়ে যাবেন তাই আমরা দ্রুত বিয়েটা সম্পুর্ন করেছি। সেসময় মোর্শেদাকে প্রশ্ন করা হয়, যদি আপনাকে চীনে বিক্রি করে দেয় তখন তিনি জানান, প্রশ্নই আসে না। আমাদের দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেছি। আমি তাকে খুবই ভালো বাসি এবং সেও আমাকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালো বাসে। চীনা (নাগরিক) স্বামীকে প্রতারনার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে তার বিভিন্ন নাম্বারে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মাহমুদুল হাসান নাঈম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ঘটনাটি ঢাকার সাভার এলাকায় ঘটেছে। তাই অভিযোগকারীকে সাভার থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাষাগত সমস্যার কারণে তার বক্তব্য পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয়নি, তবে ইশারার মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন।