
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে শনিবারও প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। মর্মান্তিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এদিকে রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ত্রাণবাহী বিমান পৌঁছেছে। তবে দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষ এখনো নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জানুয়ারিতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত দেশটির শহরগুলোতে ভবন ধসে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ। বিধ্বস্ত ভবনে ভরে গেছে বিভিন্ন শহর। এমন এক সময়ে এই দুর্যোগ আঘাত হেনেছে, যখন দেশটি আগে থেকেই অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও জটিল।
স্থানীয় প্রশাসনের ধীরগতির ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে জনরোষের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বিভিন্ন দেশের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
দেশটিতে বুধবার ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে স্বজনদের খুঁজে পেতে স্থানীয় বাসিন্দারাও খালি হাতেই নেমেছেন উদ্ধারকাজে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রথম ৭২ ঘণ্টাই জীবিত উদ্ধার করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এরপর ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষ পাওয়ার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায় এবং উদ্ধার অভিযান মূলত লাশ উদ্ধারে পরিণত হয়।
মিয়ামি থেকে একাই উদ্ধারকাজে অংশ নিতে আসা ৪৩ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় দমকলকর্মী ক্রেইগ ডেমেইলন বলেন, ‘এখানে সবকিছুই বিশৃঙ্খল ও সমন্বয়হীন। তারপরও আশা করছি, আরও কিছু মানুষকে জীবিত পাওয়া যেতে পারে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এল সালভাদরের এক উদ্ধারকর্মী বলেন, ‘এখন ধ্বংসস্তূপে সম্ভবত লাশই বেশি পাওয়া যাবে। তবে ঈশ্বরের কৃপায় যদি কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা যায়, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার এএফপিকে বলেন, ‘মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ে আংশিকভাবে সচল করা হয়েছে, যাতে সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করতে পারে। পাশাপাশি একটি মার্কিন নৌযানও ভেনেজুয়েলার উপকূলে পৌঁছেছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকা লা গুইরায় শুক্রবার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩২ ঘণ্টা পর এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এতে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটিকে কোলে নিয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন এক ব্যক্তি।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাদের জরুরি আশ্রয়, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, সুরক্ষা ও ত্রাণসামগ্রীর প্রয়োজন হবে। জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে ১ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যু ও ৩ হাজার ২৩৮ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution