
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সুফল প্রতিফলিত হচ্ছে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ১১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পুষ্টিকর টিফিন পেয়ে স্কুলগুলোতে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশুনায় মনোযোগ বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির পুষ্টিকর টিফিনের সুবাসে প্রতিটি স্কুলে বেড়েছে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। টিফিন বিতরণের সময় শিশুদের মাঝে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে। শিক্ষকরা বলেন, আগে বাড়ি থেকে না খেয়ে আসা এবং ছোট শিশুরা বেলা বাড়ার সাথে ক্ষুধার কারণে লেখাপড়ায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলতো।
ক্ষুধার্ত শিশুরা খাওয়ার জন্য বাড়ি চলে গেলেও অনেকে আর ফিলে আসতোনা। স্কুল ফিডিং চালুর পর শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলেই পুষ্টিকর টিফিন পাচ্ছে। এতে শিশুদের আর ক্ষুধার তাড়নায় উদ্বিগ্ন হতে হয়না। ফলে লেখাপড়ায় তাদের মনোযোগ এবং স্কুলে উপস্থিতি বেড়েছে। জানা গেছে, শিক্ষার্থী ঝরেপড়া রোধ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে সরকার স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলা এই কর্মসূচির আওতায় আসে।
এর মধ্যে বিরামপুর উপজেলার ১১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ হাজার ৮১ জন শিশু শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির সুফল ভোগ করছে। শুক্রবার ব্যতিত সপ্তাহের প্রতিদিন রুটিন মাফিক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ১টি করে সেদ্ধ ডিম (৬০গ্রাম), ১২০ গ্রামের বনরুটি, ১০০ গ্রামের কলা, ২০০ এমএল দুধ ও বিস্কুট টিফিন হিসেবে দেওয়া হয়। বিরামপুর উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর আশরাফুল আলম ও প্রোগ্রাম সুপারভাইজার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ২৯জন উদ্যোক্তার মাধ্যমে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ১১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টিফিন পৌঁছে দেওয়া হয়।
কঠোর নজরদারি ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে খাদ্যের পরিমাপ, মান ও পুষ্টিগুণ নিয়ে প্রতিটি স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের শিয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা রুমি বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাফল্য আসছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, আগে বিদ্যালয়গুলোতে গড় উপস্থিতি ৫০ শতাংশ ছিল। স্কুল ফিডিংয়ের ফলে উপস্থিতির হার ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কিন্ডার গার্ডেন স্কুল ও মাদ্রাসা থেকেও শিক্ষার্থীরা এসে এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। স্কুল পর্যায়ে কমিটির মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়। ফলে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বিতরণে কোনো ধরনের ব্যত্যয়ের সুযোগ নেই।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution