
ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃত ভাবে গাজা ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি নিষ্পাপ শিশুদের ‘লক্ষ্যবস্তু’ করছে বলে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন মন্তব্য করেছে। দখলদার ইসরায়েলের পাল্টা দাবি, ‘তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট।’ গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে জাতিসংঘের বিশেষ কমিশনের এই প্রতিবেদন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েল যে গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে, সে বিষয়ে গত বছরেই নিশ্চিত ছিল তদন্ত কমিটি। কিন্তু বর্বর ইসরায়েলিদের নৃশংসতা সেখানেই শেষ হয়নি। তারা ফিলিস্তিিনি শিশুদের লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে গণহত্যার শিকার হচ্ছে শিশুরা। জখম হওয়া এবং মানসিক আঘাতের ঘটনা ঘটেই চলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের ইচ্ছাকৃত ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের গণহত্যামূলক উদ্দেশ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। কমিশনের মতে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলীধরের কথায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় শিশুরা নিহত ও গুরুতর আহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনি শিশুদের যে সুরক্ষা দেওয়ার কথা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত— দু’টিকেই ইসরায়েল ধারাবাহিক ভাবে উপেক্ষা করছে। ইসরায়েল বারবার গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনেরও তীব্র সমালোচনা করেছে তারা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণঅলয় একে ‘আগের প্রতিবেদনগুলির মতোই চরম পক্ষপাতদুষ্ট একটি প্রচারপত্র’ বলে অভিহিত করেছে।
জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, এটি “জাতিসংঘের নথির ছদ্মবেশে রাজনৈতিক অপবাদ। হামাসের অপরাধ, ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড, পণবন্দি রাখা এবং শিশু ও সাধারণ মানুষকে হামাসের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলার বদলে কমিশন শুধু ইসরায়েলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েল যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে—ব্যাপক হামলা চালানো এবং মানবিক ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত সাহায্য প্রবেশে বাধা দেওয়া— তা ফিলিস্তিনি শিশুদের বেঁচে থাকা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের উপরে ‘বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাব’ ফেলেছে।
মিশনের দাবি, ইসরায়েল পরিকল্পিত ভাবে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং প্রজননস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে।
এর ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি— দু’ধরনেরই ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। আমেরিকার মধ্যস্থতায় ২০২৫-এর অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়। কিন্তু তার আট মাস পরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে ২৫০টিরও বেশি শিশু।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution