
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে গত কয়েকদিন থেকে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যতটা অসহনীয় তার চাইতে বেশি ভয়াবহ অবস্থা গ্রামগুলোতে। এই লোডশেডিংয়ের কারণে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম গত কয়েকদিন থেকে ধারণ করায় মানুষজন রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পাচ্ছেন না। এমনকি বিশ্বকাপ ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ গুলোও ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। লোডশেডিংয়ে ভোগান্তির শিকার মানুষজন তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝাড়ছেন তীব্র ক্ষোভ। । গ্রামের গ্রাহকরা দিনের বেলা বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা পেলেও সন্ধ্যার পর সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পরে।
জানা গেছে, এক সপ্তাহের বেশী সময় ধরে ভূরুঙ্গামারীতে বিদ্যুতের এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে যা অসহনীয়। পাশাপাশি সামান্য বৃষ্টি ও বাতাস হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করছে বহুবার। গরমের কারণে দোকানে বসা যাচ্ছে না। গরমে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে দিনে। তেল কিনে জেনারেটর চালিয়েও ব্যবসা চালানো দুস্কর হয়ে পড়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থী সিয়াম ও মিমি জানায়, ভূরুঙ্গামারীতে সন্ধ্যা পর থেকে ঘনঘন লোডশেডিং শুরু হয।
আমাদের গ্রামে লোডশেডিং আরো বেশি। তার ওপর প্রচন্ড গরম।এমন পরিবেশে পড়াশোনা করাই বেশ কষ্টকর হয়ে পরছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাবহারকারীরা তাদের ওয়ালে বিভিন্ন মন্তব্য করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিপ্লব ও জয়নাল নামের একজন তার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেল সব কিছুর দাম বাড়ানোর পরেও কেন আমরা সার্ভিস পাবো না? এতো পরিমাণে বিদ্যুৎ পাই যে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ফুল চার্জ হয় না! ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করবে কখন? জান্নাতুল মাওয়া মৌ তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ভূরুঙ্গামারীতে কি নতুন কোনো ‘কুত কুতথ বিদ্যুৎ নীতি চালু হয়েছে? ভূরুঙ্গামারীতে বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে আসলে কী হচ্ছে? দিনে কিছুটা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়াটা সত্যি খুবই বিরক্তিকর। সারাদিনের ব্যস্ততার পর সবাই রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে চায়।বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আশা করি বিষয়টি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইমরান হোসেন পোস্ট করেন, বর্তমানে লোডশেডিং এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যা রীতিমতো উদ্বেগ, হতাশা ও দুঃখজনক।শুধু শুধু সরকার মন চাইলে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত লোডশেডিং দিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি করে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।অতি দ্রুত লোডশেডিং বন্ধ করে জনভোগান্তি লাঘব করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এনামুল হক নামের আরেকজন লিখেন, অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বিদ্যুৎ এবার গিনেস বুকে নাম ঘোষণার অপেক্ষা।
পল্লী বিদ্যুৎ ভূরুঙ্গামারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন,এই উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট।চাহিদার বিপরীতে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি ১০ মেগাওয়াট। এছাড়া ফিডার স্ক্যাডা থাকায় দিনে ও রাতে বেশ কয়েকবার ঢাকা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।আশা করছি দ্রুতই এর সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution