
ফুটবল কখনো কখনো শুধু একটি খেলার নাম নয়। এটি একটি দেশের আত্মপরিচয় বদলে দিতে পারে, নতুন স্বপ্ন দেখাতে পারে, এমনকি অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের গল্প যেন সেই বাস্তবতারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের ছোট্ট আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসে লিখেছে রূপকথার গল্প। শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় লড়াইয়ে হারলেও মাঠের অর্জনের পাশাপাশি বিশাল অঙ্কের অর্থও ঘরে তুলতে যাচ্ছে তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে সবাইকে চমকে দেয় কেপ ভার্দে। এরপর বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১৯ নম্বরে থাকা উরুগুয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষেও গোলশূন্য ড্র করে অপরাজিত থেকেই জায়গা করে নেয় নকআউট পর্বে।
শেষ ৩২-এর ম্যাচে তাদের সামনে ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কাগজে-কলমে অসম লড়াই হলেও মাঠে সেটি মোটেও বোঝা যায়নি। দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুইবারই সমতায় ফিরে আসে কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলের নির্মম ট্র্যাজেডিতে ৩-২ ব্যবধানে হেরে শেষ হয় তাদের অবিশ্বাস্য যাত্রা। তবে মাঠের গল্প শেষ হলেও অর্জনের খাতা এখনও খোলা। কারণ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও বড় অঙ্কের প্রাইজমানি পাচ্ছে দেশটি। চলতি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ দলের মধ্যে ফিফা মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি বিতরণ করবে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় যা প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। ফিফার নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার জন্য প্রতিটি দল পাবে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ, ভ্রমণ ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার জন্য দেওয়া হবে আরও ২.৫ মিলিয়ন ডলার।
ছোট ফুটবল দেশগুলোর জন্য রয়েছে বাড়তি সহায়তাও। কেপ ভার্দের মতো দেশগুলো যাতায়াত, টিকিট এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক ব্যয়ের জন্য ১৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পাবে। এর বাইরে রয়েছে নকআউট পর্বে ওঠার পুরস্কার। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো যেখানে পাবে ৯ মিলিয়ন ডলার, সেখানে শেষ ৩২-এ উঠে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে অতিরিক্ত ১১ মিলিয়ন ডলার। ফলে কেপ ভার্দের প্রাপ্তির হিসাব দাঁড়াচ্ছে কমপক্ষে ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৫০ কোটির টাকারও বেশি। এই অর্থ সরাসরি যাবে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের হাতে। ভবিষ্যতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক ফুটবল, কোচিং এবং দেশটির ফুটবল বিকাশে কীভাবে অর্থ ব্যয় করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ফেডারেশনই।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution