মো. সেলিম রেজার প্রশ্ন ছিল, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না। থাকলে তা কী এবং কবে নাগাদ এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পূর্বের নীতির আলোকে টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানের পথ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সব পর্যায়ে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউএনএইচসিআর (UNHCR), ইউএন ওমেন (UN Women) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (WFP) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। মানবিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, সরকার বিশ্বাস করে, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত। তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল ও সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক বিষয়। এর সমাধান অনেকাংশে নির্ভর করছে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, মানবিক সহায়তা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকার বিভিন্ন কমিটি ও ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

