
ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলায় সরকারীভাবে খাল পূর্ণ:সংস্কারে নামে মাত্র কাজ করে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা লছে। নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে খাল খনন করায়। খননের মাস না পেরুতেই পুনরায় খাল ভরাট হওয়া শুরু হয়েছে। টনাটি ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলায়। বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসাবে উপজেলার দুই ইউনিয়নে মোট ১ কোটি াখ টাকা ব্যয়ে প্রায় চার কিলো ১৭ মিটার খাল খনন গত ১১ এপ্রিল উদ্বোধন করা হয়। শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণ হয় ২০জুন প্রযর্ন্ত।
অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান(ইজিপিপি) এই কাজের প্রকল্প সভাপতি আ’লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনীত নৌকা প্রতিকের ধর্মগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ও নন্দুয়ার ইউনিয়নের আব্দুল বাড়ি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যেনতেনভাবে খাল খনন করে টাকা লোপাটের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। স্থানীয়দের অভিযোগ এই দুই চেয়ারম্যানের সঠিক পদক্ষেপ এবং প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের চেষ্টায় ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের এই মহৎ প্রকল্প। জানা গেছে, উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের জওগাঁও ব্রিজ থেকে নন্দুয়ার পর্যন্ত ২ কিলোমিটার খাল খননে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৫২ লাখ টাকা। একইভাবে ধর্মগড় ইউনিয়ন এ ২কিলো ১৭ মিটার খাল খননের জন্য প্রায় ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধর্মগড় ইউনিয়নের গোরকই খালে খাল খননের মাটি পূনরায় খালে পড়ে যাচ্ছে। খাল খননের সময় খালের শুধু সাইড থেকে মাটি নিয়ে আবার খালের ঠিক নিকটেই মাটিগুলো স্তুপ করা হয়েছ্।ে এ কারণে সামান্য বৃষ্টির পানিতে তা আবারো ধুয়ে খালে পড়ছে। কোথাও কোথাও মাটি খালে পড়ে পাশের জমি ও খাল সমান হয়ে পড়েছে। একইভাবে নন্দুয়ার ইউনিয়নের খালটির শুধু সাইড থেকে মাটি নিয়ে দুই ফিট উঁচু করে রাস্তার মতো বানানো হয়েছে। সেখানে শুধুমাত্র রাস্তাটা বানাতে খালের সাইড থেকে যা মাটির প্রয়োজন ছিল। সেটুকুই মাটি খনন করা হয়েছে। তবে খাল খনন হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ দায়সারা মাটি খননের কারণে খুব তাড়াতাড়ি আবারও খাল ভরাট হয়ে যাবে। যে আশার আলো দেখেছিল স্থানীয় কৃষকেরা।
তা ভেস্তে যেতে বসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ভেক ু(এক্সাভেটর মেশিন) দিয়ে দায়সারাভাবে মাটি খনন হয়েছে। আর কিছু লোকজন দিয়ে শুধু মাটিগুলো একটু সমান করা হয়েছে। সমস্ত খাল ভেকু দিয়ে নামে মাত্র খনন হয়েছে। যেখানে কথা ছিল ৪০দিন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সাধারণ শ্রমিকেরা খাল খননের পূর্ণাঙ্গ কাজ করবে। তা না করে নামে- মাত্র শ্রমিক নিয়োগ করে। সে টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও খাল খননের নকশা ও কতটুকু খাল খনন হবে তা সঠিকভাবে নির্ধারণ না করে শুধু দায়সারাভাবে খাল খনন করা হয়েছে। এদিকে খালের দুই ধারে খুঁটি ও ঘেরাসহ গাছ রোপণের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। নন্দুয়ার ইউনিয়নের প্রকল্প চেয়ারম্যান খুব ছোট সাইজের গাছ রোপণ করেছেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও ধর্মগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এখনো গাছ রোপণ করেননি। তবে স্থানীয়রা বলছেন,ঘেরা ছাড়া গাছ এবং সাইজে ছোট গাছ খালের পাড়ে টিকবে না। অব্যশই বড়ো সাইজের ও ঘেরা দিয়ে গাছ লাগানো উচিত ।
নন্দুয়ার ইউনিয়ন খাল খনন প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাড়ি বলেন, ভেকু খরচ, শ্রমিকের খরচ গাছ রোপনে টাকা শেষ হয়েছে। কোনো অনিয়ম করা হয়নি। ধর্মগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, সরকারের নিয়মনুযায়ী খাল খনন করা হয়েছে। ভয়াল গাছ সংগ্রহ করে রোপণ করা হবে। জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল্লামা আল ওয়াদুদ বিন নুর আলিফ বলেন, খাল খনন হচ্ছে জানি,প্রশাসন ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মিলে কাজটি করছে। এখানে দলীয়ভাবে কোন সম্পৃক্তা নেই। প্রশাসন ও চেয়ারম্যান মিলে কি করছে তারাই বলতে পারবেন । তবে যদি খাল খননে অনিয়ম হয়। তা প্রশাসনকে দেখার জন্য আহ্বান করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মিজ খাদিজা বেগম বলেন, বিষয়টির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution