

স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি এবং জমি বন্ধক রেখে নতুন করে মুদি দোকানের মালামাল তুলেছিলেন হরিশ (৪০)। স্বপ্ন ছিল ব্যবসা করে সংসারকে স্বচ্ছল করার। কিন্তু এক রাতের অগ্নিকাণ্ডে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। রোববার (১২ জুলাই) রাত ২টার দিকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের নাড্ডার মোড় এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হরিশের চারটি দোকান পুড়ে যায়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্থ হরিশ।
আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন হরিশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর স্ত্রী বলেন, "স্বর্ণ বিক্রি করেছি, জমি বন্ধক রেখেছি, তারপর দোকানে মাল তুলেছিলাম। চাল, ডাল, মুরগির ফিড, কীটনাশকসহ সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের পথে বসার অবস্থা।" স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য কালিরবাজার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে ২১ বার ফোন করা হলেও কোনো কল রিসিভ করা হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, সময়মতো পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া গেলে আগুন এতটা ভয়াবহ রূপ নাও নিতে পারত এবং অন্তত কিছু মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে কালিরবাজার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ম্যানেজার বলেন, ফায়ার সার্ভিস এর সাথে কথা বলে বিদ্যুৎ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটি বুঝতে পারে নি।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে চারটি দোকানই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি সহায়তা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পল্লী বিদ্যুতের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "আমি ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution