
৮৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্ত ও সংস্কার করা গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘোড়াঘাট অংশের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও উঁচু-নিচু ঢেউ সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা।
রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ঘোড়াঘাট বাস টার্মিনাল থেকে হরিপাড়া হাট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। কয়েকটি স্থানে বড় গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল রাস্তা-তা বুঝতে পারছেন না চালকরা।
এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে রানীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ব্র্যাক (বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা) অফিসের সামনের অংশে সড়কের অবস্থা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে যানবাহন চালকদের সতর্ক করতে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, ব্যারিকেড বা নির্দেশক বসানো হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, সড়কের এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
দ্রুত সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কতামূলক নিশানা স্থাপন না করলে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচলকারী এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী চালকরা। তাদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যে-কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
মোটরসাইকেল চালক উপজেলার সোনারপাড়া গ্রামের আব্দুল আলিম বলেন, "রানীগঞ্জ বাজারে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন আশা যাওয়া করতে হয়। বৃষ্টির কারণে গর্তগুলো পানিতে ঢেকে থাকে। সামনে থেকে বোঝা যায় না কোথায় গর্ত আছে। হঠাৎ গর্তে পড়লে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি থাকে।"
আরেক মাইক্রোবাস চালক উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের মেহেদী হাসান বলেন, "রাস্তার উঁচু-নিচু, ঢেউ ও গর্তে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বা বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দ্রুত সংস্কার না হলে যে কোনোদিন যে কোন সময় বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"
সড়ক ও জনপদ (সওজ) দিনাজপুর সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর ১০৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সড়কটি ৪২ ফুট প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের জন্য ৮৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৯টি গুচ্ছের মাধ্যমে ৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের ১ জুলাই কাজ শুরু করে এবং ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ (সওজ) দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, "বিষয়টি আমারা অবগত ছিলাম না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে দ্রুত পরিদর্শন করিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution