
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. নুরু মিয়ার প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গেছে। তবে অপরাধের প্রমাণ সংবলিত ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো তিনি বহাল তবিয়তে আগের মতোই নিয়মিত অফিস করছেন বলে জানা গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. নুরু মিয়া নিজ কার্যালয়ে বসে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করছেন। পরে তিনি সেই টাকা গুনে পকেটে রাখেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি এবং তাকে সাময়িক বরখাস্তের কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।একাধিক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, কাউনিয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে টিআর, কাবিখা, এলপিআরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বিল এবং ফাইল পাসের ক্ষেত্রে নানা অজুহাতে টাকা দাবি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, কর্মকর্তাদের চাহিদামতো অনৈতিক সুবিধা বা নির্ধারিত কমিশন না দিলে অনলাইনে কোনো ফাইলের অনুমোদন দেওয়া হয় না। দিনের পর দিন ফাইল আটকে রেখে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করা এখানে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমনকি উপজেলার কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি এর আগে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. নুরু মিয়া দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি অনেক আগের। তবে ভিডিওতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট দেখা গেলেও সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমি দেখেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করব।’। অন্যদিকে, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার ভাইরাল ভিডিওয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি কেউ জানায়নি। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম, খোঁজ নিচ্ছি।
এদিকে ভিডিও প্রমাণ থাকার পরও প্রশাসনের এমন নীরব ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় সুশীল সমাজ। তাদের মতে, প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও আসার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার এমন ওপেন সিক্রেট দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন কাউনিয়াবাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution