
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং গত মাসে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ স্মারকের অধীনে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদসম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এই স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান সব পক্ষকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের এবং পুনরায় কারিগরি বা কৌশলগত পর্যায়ের সংলাপে বসার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানের এই মুখপাত্র স্বীকার করেছেন, বর্তমানে এই চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ ও জটিলতা দেখা দিয়েছে, তবে শান্তি প্রক্রিয়া সচল রাখতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা, সংলাপ ও কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই। কারণ শেষ পর্যন্ত, সব সংঘাত ও বিরোধ আলোচনার টেবিলে সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করা হয়।’
উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে উল্লেখ করে আন্দ্রাবি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে ফোনে কথা বলে কূটনীতিকেই একমাত্র পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলা পাল্টা হামলা অব্যাহত আছে। চলতি বছরের জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে এক মাসের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে তীব্র সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আলোচনা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই দাবি করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা চুক্তি করতে চায়; কারণ তারা ভালোভাবেই বুঝতে পারছে যে চুক্তিস্বাক্ষর না করলে তাদের কেউই আর অবশিষ্ট থাকবে না।’
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং বর্তমানে দেশটির শীর্ষ কূটনৈতিক মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আছে; তবে একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আলোচনার দরজাও খোলা রেখেছে। গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে ঘালিবাফ বলেন, ‘আমরা কখনও যুদ্ধ চাইনি এবং এখনও চাইনা। তবে আমরা মনে করি, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের সবসময়েই প্রস্তুত থাকা উচিত। তবে একই সঙ্গে আমরা মনে করি, জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নিতে কূটনীতি এবং আলোচনার পথকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কূটনৈতিক আলোচনার জন্য ইরানের দরজা সবসময়েই খোলা।’ এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, যদিও কাতার ও ওমানের মতো মধ্যস্থতাকারীদের সাথে নিয়ে পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, তবে বর্তমান গভীর অবিশ্বাসের পরিবেশে দুই পক্ষকে পুনরায় শান্ত করার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের একক চাপের প্রভাব সীমিত।
সূত্র: আনাদোলু, ডন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution