

তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করতেই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। গত দুই সপ্তাহে পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে মণ্ডলপাড়া জামে মসজিদ ও পূর্ব চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে নদীতীরবর্তী শত শত পরিবার আতঙ্ক ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা তিস্তার গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আনছার আলী বলেন,নদীভাঙন এখন আমাদের নিত্যদিনের আতঙ্ক। প্রতিদিনই নদী একটু একটু করে জমি আর বসতভিটা গ্রাস করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের আর কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা থাকবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: মাইদুল ইসলাম দাবি করেন, দীর্ঘদিনের নদীভাঙনের আতঙ্ক ও মানসিক চাপে একই গ্রামের আব্দুল কাদের (৭০) ও আব্দুস সালাম (৬০) মারা গেছেন। একই এলাকার ছবুর আলী (৬৫) বলেন,আমার বাড়ি ১৭ বার নদীতে ভেঙে গেছে। কিন্তু আজও স্থায়ী কোনো সমাধান পাইনি। প্রতি বছরই নতুন করে ঘর বানাতে হয়,আবার নদী তা কেড়ে নেয়।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: তাইজুল ইসলাম বলেন,ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শুকনো খাবার এবং সাত মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজও চলছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রফিকুল হাসান বলেন,পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধে তিন হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি,প্রতি বছর অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তিস্তার ভাঙন রোধে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই নতুন করে নদীভাঙনের শিকার হচ্ছেন চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ। নদীভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution