
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের মোহাম্মদপুরে প্রতিষ্ঠিত “বিরামপুর অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের” সাফল্য ও সুনামের কথা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকার মানুষের মাঝে। সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে সৃষ্টি এ বিদ্যালয় এখন গৌরবের উচ্চ শিখরে আবির্ভূত হয়েছে।
জানা গেছে, বিরামপুর পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর গ্রামের সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. গোলাম মোস্তফা সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে প্রতিবন্ধীদের মূল স্রোতোধারায় পরিচালিত করার লক্ষ্যে ২০১২ সালে তার নিজ জমিতে তৈরি করেন “বিরামপুর অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়”। দীর্ঘ প্রতিকূলতা পেরিয়ে সেই বিদ্যালয় এখন প্রতিবন্ধীদের ভরসার বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আর সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এটি এখন মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে সুনামের উচ্চ শিখরে দাঁড়িয়েছে।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিরামপুর অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৫৭ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। সমন্বিত প্রতিবন্ধী শিক্ষা নীতিমালা অনুসরণ করে এখানে প্রতি ১০জন প্রতিবন্ধীর জন্য একজন শিক্ষক, প্রতি ৫ জন অটিজমের জন্য ১ জন শিক্ষক এবং থেরাপি ইউনিটে ২ জন থেরাপিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় থেরাপি দিয়ে থাকেন। এছাড়া রয়েছে ক্রীড়া ও সঙ্গীত শিক্ষক। বিদ্যালয়ে ১৬ জন বিএসএড ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারী, অটোরিক্সা চালকসহ মোট ৪২জন কর্মরত রয়েছেন।
প্রতিবন্ধী শিক্ষা ফাউন্ডেশন, কারিগরি বোর্ড ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কারিকুলাম অনুসরণ করে শিক্ষকগণ আন্তরিকতার সাথে পাঠদান এবং খেলাধুলা ও ব্যায়ামের বিভিন্ন ধরণের উপকরণে সময় কাটানোর সুবিধার ফলে দূর-দূরান্তের প্রতিবন্ধীরাও সেখানে পড়তে আসে। এ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাঠদান ও ১০টি অটোরিক্সার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় আনা নেওয়া এবং ঢাকাস্থ জেএলআর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুপুরে কলা, মিষ্টি ও পাউরুটি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ২০১৯ সালের নীতিমালা অনুযায়ী রয়েছে ১৩ সদস্যের কমিটি এবং তার সভাপতি রয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
বিরামপুর অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের প্রতিবন্ধীরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত থাকার ফলে সমাজের মুল স্রোতোধারায় মিশতে পারেনা। তাই সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে আমার ৩০ শতাংশ জমি দান করেছি। সেখানে ৯৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থের ৭টি কক্ষ বিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষক কর্মচারীদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটলে এবং প্রতিবন্ধীরা ধারাবাহিক ভাবে শিক্ষার সুযোগ পেলেই তাঁর লক্ষ্য সফল রূপ পাবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution