
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৫, ২০২৬, ৯:৪৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২৫, ২০২৬, ৭:৩৫ পি.এম
সড়কের নিম্নমানের সদ্য নির্মাণ কাজের উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং, কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের কিশামত শেরপুর এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায় প্রায় ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়া একটি সড়কের পর্যায়বৃত্ত রক্ষণাবেক্ষণ (পিএমপি) কাজ শেষ হওয়ার হওয়ার ১মাস পার না হতেই কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও ফাটল দেখা দেওয়ায় নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এতে নিম্ন মানের কাজ ও সরকারি অর্থের অপচয় নিয়ে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ আলগা হয়ে উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও হাত বা পায়ের সামান্য চাপেই কার্পেটিং উঠে আসছে। কয়েকটি স্থানে বড় গর্ত ও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কের দুই পাশে নিয়মবহির্ভূতভাবে এজিংয়ের ইট মূল কার্পেটিংয়ের চেয়ে উঁচু করে বসানো হয়েছে। ফলে সড়কের স্বাভাবিক ঢাল নষ্ট হয়ে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের ওপর পানি জমে থাকায় নতুন কার্পেটিং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানি জমে থাকার কারণে সড়কের পাশ ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পর্যায়বৃত্ত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৬০০ বর্গমিটার এলাকায় ৪০ মিলিমিটার পুরু কার্পেটিংয়ের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসাইন ট্রেডার্স অ্যান্ড কর্পোরেশন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিন ও রাতের বেলায় তদারকির সুযোগ কম থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করেছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ, পর্যাপ্ত বিটুমিন প্রয়োগ এবং নির্মাণসামগ্রীর মান নিশ্চিত না করায় অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, “কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাস্তার কার্পেটিং উঠতে শুরু করে। আমরা ঠিকাদারকে বার বার ভালোভাবে কাজ করার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি এবং দায়িত্বে থাকা উপ - প্রকৌশলী সাধারণ মানুষের কথায় কর্ণপাত না করে নিরবতা পালনের মাধ্যমে ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। এরকম নিম্নমানের কাজের কারণে এখন সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। আমরা এই কাজের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানাই।”
বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাইমিনুল ইসলাম মারুফ বলেন, “আমি একাধিকবার ঠিকাদারকে কাজের মান ঠিক রাখার জন্য বলেছি। কিন্তু তিনি আমার কথায় গুরুত্ব দেন নাই , তাহলে আমাদের করার তেমন কিছু থাকে না।”
রংপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “বৃষ্টির কারণে তাড়াহুড়ো করে কাজ করায় এমন অবস্থা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় সংস্কার করা হবে।”
রংপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, “এজিংয়ের ইট মূল কার্পেটিংয়ের নিচে থাকার কথা, যাতে সহজে পানি নিষ্কাশন হতে পারে। এখানে ইট উঁচু থাকায় পানি জমে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়ও খতিয়ে দেখা হবে।”
তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের রেজওয়ান ইকবাল বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এমন হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দ্রুত মানসম্মতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কার করা হোক।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution