
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৪, ২০২৬, ৩:১৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৭, ২০২৪, ১১:৫৫ পি.এম
উলিপুরে ৮ বছরে একদিন উপিস্থত, অধ্যক্ষর খুঁটির জোর কোথায়

কুড়িগ্রামের উলিপুর কৃষ্ণমঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে, অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন কলেজে উপিস্থত না থাকাসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় ওই অধ্যক্ষকে অপসারণ করে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে একাধিক অভিযোগ এবং মানববন্ধন, নাগরিক সমাবেশসহ স্মারক লিপি প্রদান করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সম্প্রতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব)আব্দুল হাই সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পান। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রদান করে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করেন তিনি।
জানা গেছে, ২০১৫ সালে মো. মাহমুদুল হাসান সরকার কৃষ্ণমঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির পর সীমাহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ২০১৭ সাল হতে অদ্যবদি প্রতিষ্ঠানে অনুপিস্থত। তবে চলতি বছরে মাত্র একদিন কলেজে উপিস্থত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর মাধ্যমে কৌশলে হাজিরা খাতা বাসায় নিয়ে হাজিরা করেন অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষর দীর্ঘ অনুপস্থিত ফলে শিক্ষার নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে।
অধ্যক্ষর দায়িত্বহীনতার কারণে শ্রেণিকক্ষের ভগ্নদশা টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী ও রোদ-বৃষ্টিতে পাঠদান ব্যাহতসহ প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে জনবল নিয়োগের কথা বলে কমপক্ষে পাঁচজনের নিকট অর্থ গ্রহণ করেও নিয়োগ প্রদান করেন নাই বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর থেকে আর্থিক লেনদেন প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি হতে অপসারণের নির্দেশ প্রদান করা হলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে সব বিষয় ধামাচাপা দিয়েছেন। চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের পুকুর ও দোকান লিজের টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীর উপস্থিত কম ও শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
এতোসব অনিয়মের পরও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। একবার তার বেতন বন্ধের সুপারিশ করা হলেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন তিনি।
তবে এসব বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান লিখিত বক্তব্য পেশ করেছেন। সেখানে তিনি কৃষ্ণমঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক, তার শ্যালক ও তৎকালীন গভর্ণিং বডিকে দায়ি করেছেন। তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ সেগুলোকে রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা হিসেবেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব)আব্দুল হাই বলেন, তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ওই প্রতিষ্ঠানের সহাকারী অধ্যাপক সোলায়মান আলীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মো. আতাউর বলেন, ওই অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution