পুলিশ জানায়, ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এবং কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির ধলডাঙ্গা ক্যাম্প কমান্ডার সুবাদার মো. মতিউর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের উত্তর তিলাইয়ের বিএসসি পাড়া এলাকার মো. ময়েন আলীর ছেলে এনামুল হক অন্তরের বাড়িতে অভিযান চালায়।
এসময় তার বাড়ির হাঁস-মুরগির খোঁয়াড় থেকে লুকিয়ে রাখা ৫৫টি ভারতীয় মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। জব্দ করা ফোনগুলোর মধ্যে আইফোন, মটোরোলা, অপ্পো, রেডমি, রিয়েলমি ও ভিভোসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড রয়েছে। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলোর অবৈধ সিজার মূল্য আনুমানিক ১৩ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আসাদমোড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র ভারতীয় চোরাই মোবাইলের কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এই এলাকা থেকে মোবাইল কিনে নিয়ে যায়।
পুলিশ ও বিজিবি জানায়, ভূরুংগামারীর তিলাই ইউনিয়নের আসাদমোড় নামক স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ভারতীয় চোরাই মোবাইল বিক্রি হয়ে আসছিলো। রংপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে মোবাইল ব্যবসায়ীরা এসে এসব মোবাইল ক্রয় করে নিয়ে যেত।
সীমান্তবর্তী ভারতের বিভিন্ন স্থানে চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে দিচ্ছিলো একটি ভারতীয়-বাংলদেশী চোরাচালান চক্র। এভাবে দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ ও রেজিষ্ট্রেশনবিহীন আইএমইআই (IMEI) যুক্ত চোরাই মোবাইল ফোন ছড়িয়ে পড়ছিলো। এসব ফোন ব্যবহার করে অপরাধী চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরণের অপরাধ করে আসছিলো।
সীমান্তপথে অবৈধভাবে আসা চোরাই মোবাইল দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে নিবন্ধনহীন বা অবৈধ আইএমইআইযুক্ত মোবাইল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে ভূরুংগামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মুনতাসির মামুন মুন বলেন আসাদমোড় নামক স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল চোরাকারবারিদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিলো। বিজিবির সহায়তায় সুপরিকল্পিতভাবে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে এসব মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির সাথে সমন্বয় করে চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।