

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে বলিউডের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল ঐশ্বরিয়া রাই ও রানী মুখার্জির গভীর বন্ধুত্ব। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে মিডিয়ার সামনে হাসিমুখে পোজ দেওয়া থেকে শুরু করে সাক্ষাৎকারে প্রশংসা, সব মিলিয়ে তাদের সম্পর্ক ছিল ঈর্ষণীয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে ধরল মস্ত বড় ফাটল! মাঝখানে উঠে এলো দুটি নাম— শাহরুখ খান ও অভিষেক বচ্চন।
কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল বলিউডের এই দুই জনপ্রিয় নায়িকার মাঝে? কেন আজও তারা পুরোনো সেই বন্ধুত্বে ফিরতে পারলেন না?
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৩ সালে শাহরুখ খানের প্রযোজিত ও অভিনীত ‘চলতে চলতে’ সিনেমাকে কেন্দ্র করে। ছবিটির মূল নায়িকা হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই। এমনকি বেশ কিছু দৃশ্য শুটিংও হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু তৎকালীন সময়ে সালমান খানের সাথে ঐশ্বরিয়ার ব্যক্তিগত জটিলতা ও সেটের অপ্রীতিকর কিছু ঘটনার কারণে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি থেকে ঐশ্বরিয়াকে বাদ দিতে বাধ্য হন শাহরুখ।
এরপর ঐশ্বরিয়ার জায়গায় দ্রুত রানী মুখার্জিকে কাস্ট করা হয় এবং রানীও সেই প্রস্তাব লুফে নেন। নিজের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী কীভাবে তার জায়গায় কাজ করতে রাজি হলেন— এটি মানতে পারেননি ঐশ্বরিয়া। সেই থেকেই রানীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি।
পরবর্তীতে এই দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে অভিষেক বচ্চনকে ঘিরে। ‘হাম তুম’, ‘যাব তাক হ্যায় জা’ কিংবা ‘বন্টি অর বাবলি’-র মতো সিনেমায় অভিষেক ও রানীর অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি দারুণ পছন্দ করেছিল দর্শকেরা। সেসময় তাদের প্রেমের গুঞ্জনও তুঙ্গে ছিল।
২০০৭ সালে যখন ঐশ্বরিয়া ও অভিষেকের রাজকীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়, তখন বলিউডের বড় বড় তারকা নিমন্ত্রণ পেলেও বাদ পড়েন রানী মুখার্জি। এতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে অ্যাশের সাথে রানীর দূরত্ব কতটা গভীর হয়েছে।
পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রানী বলেছিলেন, ‘কাউকে বিয়েতে ডাকা না ডাকা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে কেউ নিমন্ত্রণ না দিলে বোঝা যায় তার জীবনে আপনার অবস্থান কোথায়! আমি হয়তো ভুল ধারণায় ছিলাম যে আমরা বন্ধু, কিন্তু বাস্তবে আমরা হয়তো শুধুই সেটের সহশিল্পী ছিলাম, বন্ধু নই।’
‘কফি উইথ করণ’-এ এসে রানী স্বীকার করেছিলেন যে ঐশ্বরিয়াই তার সাথে ফোনে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই পুরোনো ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে।
আজ তারা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আন্তরিক। এমনকি ঐশ্বরিয়ার বাবা যখন মারা যান, তখন সমস্ত দূরত্ব ভুলে তার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রানী মুখার্জি। তবে পুরোনো সেই কাছের বন্ধুর সম্পর্কে ফিরতে না পারলেও, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে মুখোমুখি হলে তারা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করেন ভদ্রভাবেই।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution