
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের কৃষকের কাছ থেকে কম দামে পাট কিনে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার ২০০ টাকায় কেনা হলেও সীমান্ত এলাকায় তা ৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
তাদের অভিযোগ, পরে এসব পাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হচ্ছে। পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত দিয়ে পাট পাচার বন্ধের দাবিতে গতকাল শনিবার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে পাটহাটে মানববন্ধন করেছেন পাটচাষি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এ বছর পাট উৎপাদনে কৃষকের খরচ বেড়েছে। কিন্তু স্থানীয় হাটে পাটের ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র কৃষকের কাছ থেকে কম দামে পাট কিনে সীমান্তবর্তী এলাকায় বেশি দামে বিক্রি করছে। পরে ওই পাট বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারতে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাটচাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় সব পাট কাটা শেষ হয়েছে। যাত্রাপুর পাটহাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি শাহানুর আলী বলেন, একসময় যাত্রাপুর হাটে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার মণ পাট বেচাকেনা হতো।
এখন কৃষকরা এ হাটে পাট নিয়ে আসছেন না। এর অন্যতম কারণ, সীমান্তবর্তী এলাকায় পাটের দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। পাটচাষি আবুল কাশেম বলেন, যাত্রাপুর হাটে প্রতি মণ পাট তিন হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সীমান্তবর্তী পাখিউড়া, কালারচর, চৌদ্দকুড়ি, নারায়ণপুর, শৌলমারী ও তেরিরহাট এলাকার ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করলে প্রতি মণ পাটের দাম ৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তার দাবি, এসব পাট পরে সীমান্ত দিয়ে ভারতের ধুবরি ও পাটামারিহাট এলাকায় পাচার করা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী উজ্জল মিয়া অভিযোগ করেন, প্রতিদিন অন্তত এক হাজার মণ পাট পাখিউড়া, কালারচর, চৌদ্দকুড়ি, নারায়ণপুর, শৌলমারী, তেরিরহাটসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে। গত জুন মাস থেকে এভাবে পাট পাচার করা হচ্ছে বলে দাবি তার। তার হিসাবে, মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মণ পাট পাচার হতে পারে।
কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান বলেন, ভারতে পাটের দাম বেশি হওয়ায় ওপারে পাট পাচার হতে পারে এই আশঙ্কা থেকে আমরা আগেই সীমান্ত নজরদারি বাড়িয়েছি। এখন পর্যন্ত সীমান্তে এরকম কিছু আমরা পাইনি। তবে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution