মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বটতলা বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বটতলা বাজার প্রদক্ষিণ করে উত্তর রাবাইতারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ‘বিপদের বন্ধু’ সংগঠনের সভাপতি রনি সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুন সরকার, সাবেক শিক্ষার্থী মাসুদ রানা, সাধারণ শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান সোহাগ, সাবেক শিক্ষার্থী শ্রী শুভ চন্দ্র রায়সহ স্থানীয়রা।
বক্তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন নুরুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের পাশাপাশি সম্প্রতি অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্ত চলাকালে কোনো পক্ষ যাতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেন তারা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক করা ও বিদ্যালয়ের সুনাম ফিরিয়ে আনতে ছাত্রসমাজ ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর উত্তর রাবাইতারী এলাকায় প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আমিন নুরু ও প্রতিবেশী হবিবর রহমানের স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে ঘিরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীর সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল।
তাদের অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত হলে প্রধান শিক্ষক সেখান থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর মোবাইল ফোন, লুঙ্গি, গামছা ও স্যান্ডেল সেখানে ফেলে যান। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরে ২ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বটতলা বাজারসংলগ্ন স্থানে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রধান শিক্ষক উপস্থিত হননি।
অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আমিন নুরুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর কলটি কেটে দেন।
ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম জানান, অভিযোগের একটি কপি পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলারা আকতার বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য জানানো হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।