ইইউএএ বলেছে, সিরিয়ায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে দেশটির নাগরিকদের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি মূল উৎপত্তিস্থল ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে ইইউর যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি তিউনিসিয়া ও মৌরিতানিয়াসহ উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে ব্রাসেলস। এই চুক্তির আওতায় অর্থনৈতিক সহায়তা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দেশগুলো। ইইউএএ বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়ালেও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো থেকে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পায়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম বলেছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যেসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম মঞ্জুর হয়েছে। গত জুনে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দেশের আবেদন মঞ্জুরের হার ২০ শতাংশের কম কিংবা যেগুলোকে ইইউ ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেসব দেশের আবেদন দ্রুত যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাখ্যাত হলে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
ইইউ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স সর্বোচ্চ ৬৯ হাজার আবেদন গ্রহণ করেছে, যা মোট আবেদনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। তালিকায় এরপরই রয়েছে ইতালি (৬৬ হাজার), স্পেন (৫৫ হাজার) এবং জার্মানি (৫৫ হাজার)। এই চার দেশে মোট আবেদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জমা পড়েছে। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে গ্রিসে (২৩ হাজার)।
অপেক্ষমাণ মামলার চিত্র
২০২৬ সালের জুন শেষে ইইউ+’এ প্রথম ধাপে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার মামলা প্রক্রিয়াধীন ছিল; যা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। তবে প্রশাসনিক ও বিচারিক সব ধাপ মিলিয়ে বর্তমানে মোট অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজারে।
প্রথম ধাপের বিচারে সবচেয়ে বেশি মামলা জমেছে ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের (১ লাখ ২৯ হাজার)। এরপর রয়েছে সিরিয়া (৭৬ হাজার), কলম্বিয়া (৬৪ হাজার), পেরু (৩৮ হাজার) এবং বাংলাদেশ (৩৬ হাজার)। নতুন আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়লেও ছয় মাসের বেশি পুরোনো মামলার সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে প্রক্রিয়াধীন মোট মামলার মধ্যে পুরোনো মামলার হার গত বছরের ৬৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ
প্রতিবেদনে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের চিত্র বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক ইইউ+ দেশগুলোতে সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। সবচেয়ে বেশি আবেদন করা দেশগুলোর তালিকায় আফগানিস্তান ও ভেনেজুয়েলার পরই বাংলাদেশিদের অবস্থান।
এছাড়া, ইইউর কঠোর অভিবাসন নীতির অধীনে যেসব দেশের নাগরিকদের আবেদন দ্রুত বাতিল ও ফেরত পাঠানোর আওতায় রাখা হয়েছে, সেসব দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। ইইউ যেসব দেশের আবেদন স্বীকৃতির হার ২০ শতাংশের কম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপের আবেদনের স্বীকৃতির হার নেমে এসেছে ৫ শতাংশের নিচে।
আবেদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও অপেক্ষমাণ মামলার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশি নাগরিকরা শীর্ষে আছেন। ইইউএএর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপেই প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশির মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলছে। যদিও সামগ্রিকভাবে নতুন আবেদনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং পুরোনো মামলার জট না ছাড়ায় ইইউজুড়ে মোট অপেক্ষমাণ মামলার মধ্যে পুরোনো ঘটনার হার বেড়ে ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

