
প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ৮:৪৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ৭:২২ পি.এম
চাঁন্দের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুয়া নিবন্ধনে এক যুগ ধরে চাকরিতে ৩ শিক্ষক!

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চাঁন্দের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদে তিন শিক্ষক এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চাকরি করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তারা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন ভুয়া বলে নিশ্চিত করার পরও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযুক্ত তিন শিক্ষক হলেন—কৃষি বিষয়ের শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম, কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক মোঃ শফিকুল্লাহ সরকার এবং সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মোছাঃ আফরুজা।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দীর্ঘদিনের সভাপতি সাইদুর রহমান দুলাল চৌধুরীর সময়কালে নানা অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমানের শ্বশুর বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘দারুল এহসান’ থেকে অর্জিত কথিত বিএড সনদের ভিত্তিতে মোস্তাফিজার রহমানকে ২০১১ সালে চাঁন্দের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ২০১৮ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ২০২৩ সালে প্রধান শিক্ষক পদে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ে ভুয়া নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রেও অনিয়ম করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
চাঁন্দের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, নিবন্ধন ও এমপিওভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রংপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাঁর কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্ত
পরে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন নিজেই চাঁন্দের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্তে যান। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ, নিবন্ধন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তা দেখাতে ব্যর্থ হন প্রধান শিক্ষক। এতে শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন সংক্রান্ত অভিযোগগুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিবন্ধনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও কেন অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির বাইরে থেকে কীভাবে অভিযুক্তরা চাকরি ও সরকারি সুবিধা ভোগ করে আসছেন, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনিয়ম হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমার কাগজপত্র সঠিক আছে। সভাপতি সাইদুর রহমান দুলাল চৌধুরী বলেন, বিধি অনুযায়ী সবকিছু করা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান বলেন,অভিযোগ প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার এনায়েত হোসেন বলেন,এখনও তদন্ত চলছে,অভিযোগগুলো যাচাই করা হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution