
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় বেড়েছে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার। আগে যেখানে দিনে ১১০ থেকে ১২০ জন পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার করতো সেখানে বর্তমান প্রতিদিন ১শ ৫০ থেকে ১শ ৬০ জন পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার করছে। ফলে বেড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ও। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পাসপোর্ট যাত্রী পারাপারে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬২ লাখ ৯৫ হাজার ৫শ টাকা। এদিকে পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার বাড়ায় শ্রমিকদের মাঝে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য, বেড়েছে আয় রোজগার। ফলে খুশি কর্মরত শ্রমিকরা। অপরদিকে আগের তুলনায় পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার বেড়েছে এবং যাত্রীরা যাতে কোন প্রকার হয়রানীর শিকার না হয় সেদিকে নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানান ইমিগ্রেশন কতৃপক্ষ।
হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর। এই বন্দরে রয়েছে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। সড়ক ও রেলপথে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ও সহজ হওয়ায় কলকাতা, চেন্নাইসহ বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানোয় উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, ভ্রমণসহ নানা কাজে প্রতিদিন এ পথ দিয়ে গড়ে বর্তমান ১শ ৫০ থেকে ১৬০ জন পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত করছেন। অথচ এর আগে প্রতিদিন গড়ে ১১০ জন থেকে ১২০ জন পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার করতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর ভারত বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য টুরিস্ট ভিসা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় পর্যটন ভিসায় দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। সেটি গত ২৮ জুন থেকে চালু হওয়ায় বেড়েছে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার।
কয়েকজন পাসপোর্ট যাত্রী বলেন, প্রায় দুই বছর পর চলতি বছরের ২৮ জুন থেকে পুনরায় টুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হলে ভ্রমণপিপাসু মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। এরপর ধীরে ধীরে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় সীমান্ত পথে যাত্রী চলাচলও বাড়তে শুরু করে। ভ্রমণ, চিকিৎসা, ব্যবসায়িক প্রয়োজন এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে। পর্যটক ভিসা চালুর ফলে দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত পথে যাত্রী চলাচল বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবা খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক থাকলে ভবিষ্যতে হিলি স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।দীর্ঘদিন টুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এখন ভিসা চালু হওয়ায় চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত কাজের জন্য সহজে যাতায়াত করতে পারছেন। দীর্ঘদিন পর পর্যটন ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক বাংলাদেশি চিকিৎসা, ভ্রমণ, শিক্ষা ও ব্যক্তিগত কাজে ভারতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভারত থেকেও পর্যটক ও দর্শনার্থীদের বাংলাদেশে আগমন বেড়েছে। ফলে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে প্রতিদিনই যাত্রীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, যাত্রীর লাগেজবোঝাইসহ বিভিন্ন কাজ করে বেশ কিছু শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় মানবেতন জীবন যাপন করতেন শ্রমীকরা। এমনকি পরিবার পরিজন নিয়ে তারা কষ্টে ছিলেন। এখন টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় তাদের মাঝে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য, ফুটেছে মুখে হাসি। যাত্রী বাড়ায় ইনকাম ভালো হচ্ছে ,তাতে পরিবার পরিজনকে নিয়ে ভালো দিন কাটছে বলে জানান তারা।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি জাকারিয়া বলেন, আগের তুলনায় পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার বেড়েছে এবং যাত্রীরা যাতে কোন প্রকার হয়রানীর শিকার না হয় সেদিকে নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানান ইমিগ্রেশন কতৃপক্ষ।
কাস্টমস সুত্রে, হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনে চলতি বছরে(১লা জানুয়ারী- ২৩ আগস্ট) পর্যন্ত আগমন হয়েছে ১৯ হাজার ২শ ৩৩ জন আর বর্হিগমন হয়েছে ২১ হাজার ৪শ ৪০ জন যাত্রী। যা থেকে সরকার রাজস্ব (ভ্রমনকর) পেয়েছে ২ কোটি ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫শ টাকা ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution