পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসলামপুর চরের বিস্তীর্ণ কাশবনের মধ্যে কয়েকজন যুবক কফি শপের নামে একটি বিনোদনকেন্দ্র পরিচালনা করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিয়মিত মাদক সেবন, জুয়া ও অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন করা হতো। সন্ধ্যার পর দূরদূরান্ত থেকে লোকজন সেখানে আসতেন। কাশবনের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডও চলত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের অভিযোগ, দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে সহজে পুলিশের নজরদারি পৌঁছাত না। এ সুযোগে কিছু কিশোর-কিশোরীও সেখানে যাতায়াত করত। এতে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগের পর মঙ্গলবার বিকেলে ওই দুর্গম চর পেরিয়ে কাশবনের ভেতরে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ, সহকারি কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জামিলুর রহমান,ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ও ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এই অভিযান চালায়। অভিযানে তাদের সাথে প্রায় অর্ধশত গ্রাম পুলিশ সদস্য অংশ নেন।
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ টীম কথিত কফি শপ ও বিনোদনকেন্দ্রে অভিযান চালায়। পরে সেখানকার স্থাপনা ও আয়োজন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন ওই দুর্গম কাশবনে কফি খাওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা বলা হলেও সেখানে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাই। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে সব স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়। বিনোদনের আড়ালে কেউ যদি মাদক সেবন বা কোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’