রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে রংপুরের গঙ্গাচড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দৈনিক প্রতিদিনের বার্তা ও লাখোকণ্ঠের প্রতিনিধি এবং গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে যান তারা ।
এ সময় সংসদ সদস্য বলেন, নিজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই তিনি আহত সাংবাদিককে দেখতে হাসপাতালে এসেছেন। সাংবাদিকরা দেশের দর্পণ, তারা সমাজের নানা অনিয়ম ও বাস্তবতা জাতির সামনে তুলে ধরেন। একজন সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তিনি নিন্দা জানান।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন দ্রুত হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। একই সঙ্গে আহত সাংবাদিকের চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছি। বর্তমানে তার চিকিৎসাসেবা চলছে।”
এ সময় এমপি আহত সাংবাদিকের চিকিৎসার বিষয়ে যাবতীয় খোঁজখবর নেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এ সময় হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাহাবুব হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও গঙ্গাচড়া উপজেলা আমীর মাও. নায়েবুজ্জামান,উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল প্রধান আশরাফুল আলমসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের মাথায় আঘাত ও বাম পায়ে জখমের বিষয়টি সংসদ সদস্যকে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিক আছেন।
উল্লেখ্য, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার সংবাদ প্রকাশের জেরে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের উমর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলাল বাংলাদেশ বুলেটিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মোঃ ওয়াসিমুল বারী সিয়ামের বাবা। তিনি দৈনিক লাখোকণ্ঠ ও দৈনিক প্রতিদিনের বার্তার গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি এবং গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই দিন গজঘণ্টা ইউনিয়নের উমর এলাকায় কৃষিজমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালান গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুর ইসলাম। অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
পরে ওই অভিযানের সংবাদ স্থানীয় দৈনিক প্রতিদিনের বার্তা, সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালকে মৌখিকভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় উমর বাজারে তাকে একা পেয়ে পথরোধ করা হয়। হামলার সময় কয়েকজন তাকে গলা চেপে ধরে এবং পেছন থেকে হাত আটকে রাখেন। এ সময় পেছন থেকে আরেক ব্যক্তি কাঠ কাটার ধারালো কুড়ালের উল্টো পীঠ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।
আঘাতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যান সাংবাদিক দুলাল। এরপরও তাকে মারধর করা হয় । এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বড় ছেলের সেমিস্টার ফি ও থাকা-খাওয়ার খরচ বিকাশে পাঠানোর জন্য সঙ্গে থাকা নগদ ৩৫ হাজার টাকা এবং শার্টের বাম পকেটে থাকা Oppo A57 মডেলের মোবাইল ফোনটি নিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গজঘণ্টা ইউনিয়নের উমর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত গোলজার হোসেনের ছেলে কামরুজ্জামান ও তার ছোট ভাই আমানুল্লাহ আমানসহ ৭-৮ জন দলবদ্ধভাবে এ হামলায় জড়িত ছিলেন।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে গঙ্গাচাড়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা হাসপাতালে ছুটে যান। পরে গঙ্গাচাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এবং এমপিরায়হান সিরাজী, গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আখের মিঞা, হাজী দেলওয়ার হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মোঃ সাইয়েদুল ইসলাম, আলমবিদিতর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক সুব্রত রায়, উপজেলা কৃষি অফিসের অফিস সহকারী কাম- মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজ।
উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম আসাদুজ্জামান আসাদ, অবসরঃ সুলতান আহম্মেদ, দৈনিক প্রতিদিনের বার্তা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আমানত হোসেন'সহ আরো অনেকে আহত সাংবাদিককে দেখতে হাসপাতালে যান।
এছাড়াও মুটো ফোনে গঙ্গাচড়ায় কর্মরত সাবেক ইউএনও নাহিদ তামান্না, তাসলিমা বেগম, কৃষি অফিসার রুবেল হুসেনসহ অনেকেই খোঁজ খবর নিয়ে সমবেদনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে), গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাব, গঙ্গাচড়া প্রেসক্লাব, রংপুর প্রেসক্লাব, রংপুর সদর উপজেলা প্রেসক্লাব, মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।