অভিযানে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, নকল সাদৃশ্য সার, নকল বালাই ছত্রাক নাশক, রং ক্যামিক্যাল, ইটের রাবিশ, কাঠের গুড়া, খালি প্যাকেট, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। গোডাউনটিতে বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য প্যাকেটের পাশাপাশি সার ও ভূসি তৈরির ১ হাজার ১শত ২৬ বস্তার বেশি উপকরণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া নকল একারখানার হোতা মাইদুল ইসলাম বাবু উপজেলার কালসারডারা সংলগ্ন জায়গায় একটি চাতালে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গো-খাদ্যে গমের ভুসির সঙ্গে ধানের ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে ‘বসুন্ধরা’ ও ‘মণ্ডল’সহ নামীদামী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করে আসছেন। এসব পন্য নিরাপদে রাখতে তিনি পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার সংলগ্ন জায়গায় গোডাউন ভাড়া নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। এর আগে শনিবার রাতে আব্দুল্লাহ্পুর বাজার সংলগ্ন সাদুল্লাপুর সীমানার আলী নগর বাদুরপুরে মাইদুল ইসলাম বাবুর নকল সার তৈরীর কারখানায় সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রসাশন যৌথ অভিযান পরিচালনা করে নকল সারসহ সার তৈরীর সরঞ্জামাদি উদ্ধারসহ সিলগালা করে। রোববার (১০.১০.২০২৬) পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন মাইদুল ইসলাম বাবুর দোকান সংলগ্ন কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম বাবু ও আলহাজ্ব মোখলেছুর রহমান কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এনিয়ে স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতো দিন তাঁদের ধারণা ছিল, সেখানে কোঁচো জৈব সার তৈরির কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। এ কারণে কারখানাটির কার্যক্রম নিয়ে তাঁদের তেমন সন্দেহ হয়নি। তবে প্রশাসনের অভিযানের সময় বিভিন্ন ধরনের নকল সাদৃশ্য সার, বালাইনাশক কীটনাশক, ছত্রাকনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ তৈরির সরঞ্জাম দেখতে পেয়ে তাঁরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, “আমরা যে উপকরণগুলো পেয়েছি, সেগুলো পরীক্ষার জন্য রংপুরে পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর বোঝা যাবে, সেগুলো আসল না নকল। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, সেখানে নকল পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল।” কারখানাটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এজন্য তদন্ত সাপেক্ষে জব্দ করা পণ্যাদির পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা করা হবে।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, নকল সাদৃশ্য সার, নকল বালাই ছত্রাক নাশক, রং ক্যামিক্যাল, ইটের রাবিশ,কাঠের গুড়া, খালি প্যাকেট, নামিদামি ব্র্যান্ডের খালি প্যাকেটসহ নানা উপকরণ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দিয়ে সার, কীটনাশক ও ভূসি তৈরি করা হতো। প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গোডাউনটি তালাবদ্ধ রাখার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বিদ্যমান এপরিস্থিতিতে নকল সার কারবারিদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে ওই অঞ্চলের ভুক্তভোগি কৃষকরা। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযানে সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল রানা, পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তাজুল ইসলাম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।