গত বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভূটকা এলাকার পশ্চিম নবনীদাস (মাঠের পাড়) গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত অশোক চন্দ্র রায় ও তাঁর ছোট ভাই নরেশ চন্দ্র রায় উভয়ের পিতা মৃত সতীশ চন্দ্র রায়। তাঁদের বসতবাড়ি একই এলাকায় পাশাপাশি অবস্থিত।
৫ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, বসতঘরের জায়গায় পড়ে আছে পোড়া টিন, বাঁশ ও কাঠের অবশিষ্টাংশ। আগুনে সবকিছু হারিয়ে অশোক চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী চানু বালা পোড়া টিন দিয়ে তৈরি একটি ছোট্ট চালাঘরে রাত কাটিয়েছেন।
অশোক চন্দ্র রায় পেশায় একজন দিনমজুর। এলাকায় ঘুরে ঘুরে নারকেল ও খেজুরগাছের ডাল কাটার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বাবার কাছ থেকে পাওয়া মাত্র দুই শতক জমির ওপরই ছিল তাঁর বসতবাড়ি।
অশোক চন্দ্র রায় বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় আমার বাড়ি পুড়ে সবকিছু বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, গরু-ছাগল ও জমানো টাকা—সবই শেষ হয়ে গেছে। এমপি সাহেব দেখতে এসে শুকনো খাবার দিয়েছেন এবং সহযোগিতা ও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সবাই যদি সহযোগিতা করেন, তাহলে আবার আমি ঘুরে দাঁড়াতে পারব।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গঙ্গাচড়া উপজেলা আমির মাওলানা নায়েবুজ্জামান, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়ন আমির ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মনিছুর রহমান এবং বড়বিল ইউনিয়ন আমির ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সোহাগ রহমান।
পরিদর্শনকালে রায়হান সিরাজী বলেন, গতকাল রাতেই খবর পেয়ে স্থানীয় দায়িত্বশীলদের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য বলেছিলাম। স্থানীয় দায়িত্বশীলরা গতকাল রাতেই শুকনো খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। আমি আজ এসে দেখলাম, তাঁদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
তিনি বলেন, আজ কিছু অর্থ দিয়ে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে আগামী শনিবার অথবা রবিবার অশোক কাকাকে দুই বান টিন ও ছয় হাজার টাকা এবং নরেশ চন্দ্র ও নীরো বালাকে এক বান করে মোট চার বান টিন পৌঁছে দেব। আশপাশে যারা আছেন, সবাই সহযোগিতা ও পাশে থাকলে তাঁদের এই ক্ষতি কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব হবে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির দাবি, আগুনে তাঁদের প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে বসতঘর হারিয়ে তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নতুন করে ঘর তৈরি করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।