
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৩, ২০২৬, ১২:১৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৪, ২০২৪, ৩:৫২ পি.এম
ধান চাষীদের এক চতুর্থাংশ খরচ উঠছে কাঁচা খড় বিক্রি করে

গরু ছাগলের বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাওয়া, শুকনো খড়ের মজুদ না থাকা এবং মাঠে ঘাস না থাকায় সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এখন গো-খাদ্য হিসেবে কাঁচা খড়ের চাহিদা অনেক। এ কারণে আগাম জাতের আমন ধান কেটে কৃষকরা দ্রুত ধান ছাড়িয়ে কাঁচা খড় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
কয়েক বছর আগেও জমির মালিকরা এসব খড় মানুষকে বিনামূল্যে দিয়ে দিতেন। তবে এখন সময় বদলে গেছে। খড়ও হয়েছে মূল্যবান বস্তু। বর্ষা মৌসুমে দেশে উত্তর ও দক্ষিন অঞ্চলে ব্যাপক বন্যার কারনে মাঠে ঘাস না থাকায় এখন খড়ের চাহিদা ব্যাপক। তাই এখন আর কেউ খড় বিনা মুল্যে দিতে রাজি নন। ফলে ধান কাটা শেষে এখন কৃষকদের মধ্যে খড় বিক্রির ধুম পরেছে।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আমন মৌসুমের আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে এখন ধান বিক্রির চেয়ে খড় বিক্রি প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেশি। কারণ কিছুদিন পরেও ধান বিক্রি করা যাবে। তবে দ্রুত কাঁচা খড় বিক্রি করা গেলে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন কৃষকরা।
উপজেলার পাটশাও গ্রামে কৃষক আবু হানিফ বলেন, কয়েক বছর আগেও আমরা খড় মানুষকে ফাও দিয়ে দিতাম। এখন আর কেউ ফাও চাইলে দেই না। ধান দিতে রাজি আছি কিন্তু খড় দিতে রাজি নই। খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা ধান চাষে লাভবান হচ্ছি।
উপজেলার মরিচা গ্রামের কৃষক আবুল হাসান বলেন, এ বছর ৩ বিঘা জমি থেকে ১৫'শ খড়ের আঁটি পেয়েছি। নিজের বাড়ির গরুর জন্য কিছু রেখে বাকি প্রতি এক মুঠো আঁটি ৩ টাকায় বিক্রি করছি।
ঋষিঘাট গ্রামে ইউনুছ আলী জানান, গ্রামে অধিকাংশ চাষী এখন খড় বিক্রিতে উৎসাহী। হাট বাজারে ধান নিয়ে অনেক সময় বসে থাকতে হয়। কিন্তু ধান কাটার আগেই খড়ের ক্রেতা জুটে যায়।
চাঁদপাড়া গ্রামের শ্রী বর্মন জানান, এখন জমি পরে থাকে না। ঘাসের জমির অভাব। তাই খড়ের দামও বেড়ে গেছে। বাজারে গরুর খাবারের দাম বেশি।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুজ্জামান জানান, আমন ধান কৃষকের ঘরে উঠা আরও প্রায় দেড় মাস সময় লাগবে। তাই এলাকায় গো-খাদ্য হিসেবে খড়সহ ঘাসের অভাব দেখা দিয়েছে। আর আগাম আমন ধান তোলা এখন শুরু হয়ে গেছে। আগাম জাতের ধান চাষ করার ফলে গরু ছাগলের ঘাষের চাহিদা পূরণ করছেন। তিনি আরও জানান, সাধারণত আগাম জাতের ধান জুলাই মাসের ১৫ তারিখের পরেই লাগানো হয়ে থাকে এবং ১১৫ দিনের মধ্যেই ধান কাটা যায়। আর মূল আমন ধান উঠতে সময় লাগে ১৪০ থেকে ১৫০ দিন। কৃষকরা আগাম জাতের ধান কেটে ওই জমিতে সঠিক সময়ে রবি সষ্য ফলিয়ে লাভবান হবেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ১১ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫% থেকে ২০% আগাম জাতের ধান কাটা হয়েছে। গো-খাদ্য হিসেবে এখন খড়ের চাহিদা আছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের ভেটেনারি সার্জন ডা. আরিফা পারভীন জানান, ঘোড়াঘাট উপজেলায় গোবাদি পশু আছে প্রায় ৬৫ হাজার। খাবার হিসেবে প্রতিটি গরুকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ আঁটি খড় দিতে হয়। বিশেষ করে গাভীর জন্য খড় খুবই উপকারী। তবে এ খড় প্রোসেসিং করে খাওয়াতে পারলে বেশি উপকারী হবে। এজন্য কৃষকরা বাজার থেকে কেনা গো-খাদ্যের চেয়ে ধানের খড়কে বেশি গুরুত্ব দেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution