
প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১৫, ২০২৬, ৭:৩৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২১, ২০২৪, ১:৩০ এ.এম
মিঠাপুকুরে ভালবাসার অপরাধে মধ্যযুগীয় কায়দায় কিশোরকে নির্যাতন

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় প্রেম-ভালবাসার সম্পর্কের জের ধরে এক কিশোরকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম রাজু মিয়া (১৭)। সে উপজেলার শাল্টি গোপালপুর ইউনিয়নের দূর্গামতি গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে।
১৯ অক্টোবর ঘটে যাওয়া একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় কিশোর রাজুকে একটি আম গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় বেধড়ক পেটাচ্ছেন কিছু লোকজন। সেখানে ২জন গ্রাম পুলিশকেও দেখা যায়। কিশোরের হাত ও ঘাড়ে রশি দিয়ে বাঁধা থাকলেও কোনরকম বাঁধা দেয়নি গ্রাম পুলিশরাও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার কিশোর পড়ালেখা বাদ দিয়ে তার বাবার সঙ্গে কৃষি কাজ করেন । প্রতিবেশী এক মেয়ের সঙ্গে সম্প্রতি তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত শনিবার নিজ বাড়ির সামনে থেকে কিশোরকে ধরে নিয়ে যায় মেয়েটির বাড়ির লোকজন। পরে তাকে বাড়ির আঙিনায় আমগাছের সাথে রশি দিয়ে শক্তভাবে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে এলাকার আবদুল খালেক, করিম মিয়া, রবিউল, সেহেরুল, মোস্তা, আনারুল, রউফ, তালেব, কুদ্দুস, মিজানসহ ১৫ থেকে ২০ জন লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে অসুস্থ অবস্থায় রাজুকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় । পুলিশ তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রোববার (২০ অক্টোবর) গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে এলাকার শতাধিক বাসিন্দা কিশোরের বাড়ির সামনে জড়ো হন। এ সময় তার স্বজনরা বিলাপ করতে থাকেন। রাজুর বাবা সাহেব আলী জানান, তার ছেলের কোন দোষ নেই। মেয়ে পক্ষের লোকজন অন্যায়ভাবে তার ছেলেকে খুব মেরেছে। তিনি এ ঘটনার ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন। কিশোরের ৮০ বছর বয়সী দাদি জানান, হামার নাতিক আনি দ্যাও। বিনা দোষে ওরা ছইলট্যাক এংকা (এরকম) করি গরুর মতোন ডাংগাইলো (মারধর)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নারীর ভাষ্যমতে, ছেলেটার কোনো দোষ নেই। তিনি শুনেছেন মেয়েটির সঙ্গে কিশোরের ভালোবাসার সর্ম্পক ছিল। এ অপরাধে তাকে ধরে নিয়ে মারধর করেছে। স্থানীয়রা জানান, মেয়েটির বাবা গায়ের জোরে লোকজন ভাড়া করে ছেলেটিকে ধরে খুব মারপিট করেছে। তারা গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়েটির বাবা হাফিজুর রহমান জানান, তার মেয়েকে বারবার বিরক্ত করে আসছিল ছেলেটি। তাই তাকে ধরে শাসন করেছেন তিনি। অপরাধ করে থাকলে আইনের সহযোগিতা না নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তিনি কোনও জবাব দেননি। আবদুল খালেক, করিমসহ অন্যরাও একই ধরনের কথা বলেছেন।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ মোবাইলে জানান, ছেলেটিকে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করা ঠিক হয়নি। তাকে রক্ষার জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে ১৫১ ধরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution