
প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১০:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৯, ২০২৪, ৯:২২ পি.এম
ফুলবাড়ীতে খেজুরের রস সংগ্রহে গাছিদের প্রস্তুতি

সীমান্তবর্তী এ উপজেলা ভারতের হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় শরত ও হেমন্তের শুরু থেকে আগাম শীতের আগমন ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সকালের দূর্বা ঘাস কিংবা বিভিন্ন ফসলের সবুজ ডগায় বিন্দু বিন্দু শিশির কণা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। আগাম শীতের আগমনী দেওয়ায় আগেভাগেই খেজুরে গাছের রস সংগ্রহ করার জন্য জেলা জুড়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাছিরা।
দেশে অন্যান্য জেলা- উপজেলার মতোই প্রাচীনকাল থেকে ফুলবাড়ীতেও খেজুরের রস ও গুড়ের জনপ্রিয়তা ব্যাপক সুনাম ছড়িয়ে আছে। দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে এ এলাকার অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
শুধু পরিবর্তন হয়নি খেজুরের রস সংগ্রহ এবং গুড়-পাটালি তৈরির পদ্ধতি। সেই সাথে দিন দিন কমে যাচ্ছে খেজুর গাছের সংখ্যা। প্রতি বছর শীত আসার শুরুতে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য খেজুরগাছ পরিষ্কার ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামঞ্চলের গাছিরা। এবার একটু আগেভাগেই কড়া নাড়ছে শীত। তাই গাছিরাও খেজুর গাছের ডালপালা পরিষ্কার করে গাছ তোলাসহ যাবতীয় কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন। আর মাত্র এক সপ্তাহ পরে খেজুরের রস ও গুড় পাওয়া যাবে এ অঞ্চলে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে ঘুরে দেখা গেছে, ইতিমধ্যে স্থানীয় গাছিরা খেজুরগাছ তোলার (চাঁচা) কাজ শুরু করেছেন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে নতুন খেজুর গুড়-পাটালি পাওয়া যাবে।
ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলায় এখন চোখে পড়ছে খেজুরগাছ তোলা-চাঁচার চিরায়ত দৃশ্য। গাছিরা শেষ মুহূর্তে মহা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কিছুদিন পরই গ্রামবাংলার গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধু বৃক্ষ থেকে সুমধুর রস বের করে বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হবে গুড়-পাটালি তৈরির মহা উৎসব। গ্রামগঞ্জে খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা, পায়েস, মুড়ি-মুড়কি ও নানা রকমের মুখরোচক খাবার তৈরি করারও ধুম পড়বে।
কুরুষাফেরুষা এলাকার বাসিন্দা শৈলান চন্দ্র রায় ও গজেরকুটি এলাকার আব্দুল হানিফ সরকার জানান, প্রতি বছরের মতো এ বছরও স্থানীয় গাছিরা খেজুর গাছ মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ অঞ্চলের গাছিরা টানা ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে খেজুরগাছের মাথা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। শেষ মুহূর্তে খেজুর গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা। আর কয়েকদিন পরে শুরু হবে রস সংগ্রহ। গাছিরা চিরাচরিত পদ্ধতিতে মাটির কলসে রাতভর রস সংগ্রহ করা হয়। ভোরের সূর্য ওঠার আগে গাছিরা রসভর্তি মাটির কলস অথবা প্লাস্টিকের জারিক্যান গাছ থেকে নামিয়ে পরে মাটির হাঁড়িতে কিংবা টিনের বড় হাঁড়িতে জ্বালিয়ে গুড়-পাটালি তৈরি করেন।
নাওডাঙ্গা এলাকার গাছি হারুন অর রশিদ ও কুরুষাফেরুষা এলাকার গাছি রেজাউল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন গাছি জানান, গাছ কাটা, রস জ্বালানো ও গুড়, পাটালি তৈরির উপকরণ খড়সহ বিভিন্ন উপকরণের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর গত বছরের তুলনায় খেজুরের রস, গুড় ও পাটালির দাম দ্বিগুণ হবে। এই গাছি শীত আসা মাত্র স্থানীয় কৃষকদের খেজুর গাছ কন্টাক নিয়ে গুড় উৎপাদন করে লাভবান হয়।
প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: নিলুফা ইয়াছমিন জানান, খেজুর গাছের কোন বাগান নেই। উপজেলায় জুড়ে সড়ক, পুকুর পাড় ও বাড়ির উঠানে খেজুর গাছ রয়েছে। তবে দিন দিন খেজুর গাছের সংখ্যা কমছে। কৃষি বিভাগ বিভিন্ন সময় দেশি খেজুর গাছ ও সৌদি খেজুর রোপনে উদ্বুদ্ধ করা হয়। খেজুরের রস খুব সু-মিষ্টি। তা ছাড়া রস থেকে খেজুরের যে পাটালি গুড় তৈরি করা হয় তা মানুষের কাছে ভীষণ পছন্দের।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution