
মুখভরা তরকারি মুলা’র অনেক কদর রয়েছে এ বছর। চাষাবাদের উপর নির্ভর করে এই সবজির চাহিদা। আবাদ একটু বেশি হলেই গ্রামগঞ্জে বা হাটবাজারের অলি-গলিতে মুলার ঢলাঢলি হয়ে থাকে। অনেক সময় চাষিরা নদীতে ভাসিয়ে দেয় এই তরকারি। বর্ষা মৌসুমের শেষ পর্যায়ে অতিবৃষ্টি এবং বন্যার কারনে হাটবাজারে প্রচুর চাহিদা বেড়েছে এই মুলা’র। বর্তমানে চাষিদের পকেট গরম করছে এই সবজি।
অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরও আনন্দের সাথে চাষিরা মুলার আবাদ করছে। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর বালু চর ঘুরে কথা হয় মুলা চাষিদের সাথে। চাষিরা বলছেন, এ বছর মুলা’র আবাদ কম হয়েছে। গত বছর আবাদ বেশি করা হয়েছিল। তাই শেষ পর্যন্ত মুলা নদীতে ভেসে দেয়া হয়েছে। যে কারনে এ বছর এই তরকারির আবাদ কম হয়েছে। মুলা পানি জাতীয় সবজি ৪ থেকে ৬ টি মুলা এক কেজি হয়, আর ৪০ কেজিতে ১ মন।
বর্তমানে ১২’শ টাকা দরে প্রতি মন মুলা বিক্রি করা হচ্ছে, তাও আবার জমি থেকেই। এই সবজি এবার চাষিদের রীতিমতো পকেট গরম করে দিচ্ছে। মুলা চাষি কুয়াতপুর হামিদপুর গ্রামের মর্তুজা মিয়া জানান, কেউ বুঝতে পারেনি এবার মুলার দাম বেশি হবে। গত বছরে মুলার গড়াগড়ি ছিল। সেই কারনে এ বছর আবাদ কম করা হয়েছে। করতোয়া নদীর বালু চরে প্রতিটি সবজির আবাদ ভালই হয়। এছাড়াও এখানে মুলা সাথী ফসল হিসেবেও জমিতে চাষ করা হয়। মরিচ,টমেটো, আলু,মিষ্টি কুমড়াসহ অনেক সবজির সাথে এই মুলা’র চাষ করা হয়। বিশেষ করে এই বালু চরে সবজি মুলার ফলন অনেক ভাল হয়ে থাকে। এখানে যে সব কৃষক মুলার চাষ করছে তারা সকলেই লাভবান হয়েছে।
একই এলাকার শামীম মিয়া বলেন,নদীর তীরে মুলার আবাদ করে অনেক সুবিধা। পাইকাড়রা প্রতিদিন নদীর তীরে এসে মুলা কিনছে। এতে সময় বাঁচে এবং হাটবাজারে যেতে হয় না। মুলা কেটে নদীর পানিতে পরিস্কার করে ওজন দিলেই ঝামেলা শেষ। এখান থেকে পাইকাড়রা ট্রাকযোগে ঢাকাসহ বিভিন্ন মোকামে প্রেরন করা হয় এই মুলা। মুলার পাইকাড়ী ব্যবসায়ী হাফিজার রহমান জানান,হাটে মুলা যে দরে বিক্রি করা হয় তার চেয়ে ১’শ টাকা কমে এখানে কেনা যায়। এতে সকলেরই সুবিধে হয়।
কৃষকের হয়রানিও কমহয়। এখানে মুলা ওজন করে দিয়ে তারা ক্ষেত খামারে কাজ করছে। এই এলাকায় কয়েকজন মুলার পাইকড়র রয়েছে। আমি মুলা কিনে ক্যারেটের মাধ্যমে ঢাকায় নিয়ে যাই। প্রতিটি ক্যারেটে ২০ কেজি করে মুলা থাকে। এতে করে সবজিতে কোন দাগ বা স্পট হয় না। পাইকারি আড়ৎ গুলোতে এই সবজির চাহিদা প্রচুর এবং দামেও বেশি পাওয়া যায়।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান সরকার জানান,চলতি মওসুমে উপজেলায় প্রায় ৫৬ হেক্টর জমিতে মুলা’র চাষ করা হয়েছে। আগাম জাতের মুলা চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। একদিকে মুলা চাষে খরচ, এটি স্বল্পমেয়াদী আবাদ উপরন্ত মুলা সাথী ফসল হিসেবেও চাষ করা যায়।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution