
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৪, ২০২৬, ৭:১৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২২, ২০২৪, ১১:৩০ এ.এম
প্রকৌশলী সোহেল রানা বদলী ঠেকিয়ে করছেন অপকর্ম

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে ২০২১সালের ডিসেম্বরে যোগদান করেন মোঃ সোহেল রানা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে গড়ে তুলেছেন ঘুষ বানিজ্য ও দূর্নীতির নিজস্ব সিন্ডিকেট বলয়। প্রায় দীর্ঘ ৩বছরে ওই অঞ্চলে বিস্তার করেছেন নিজের আধিপত্য। অদৃশ্য কারনে বদলীর ১০ মাস পার হলেও কর্মস্থল ছাড়ছেন না প্রকৌশলী মোঃ সোহেল রানা।
জানা গেছে, গত ১১ফেব্রুয়ারি,২০২৪ইং তারিখে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ততকালীন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আলি আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত স্বারক নং- ৪৬.০২.০০০০.০০১.৯৯.১৮৬.২১.২৭১৩/১(২০) এ কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সোহেল রানাকে বদলী করে পার্শ্ববর্তী জেলা লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় বদলী করা হয়েছিল। তবে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার হামিদুর রহমানের মদদে থেকে গেছেন রাজারহাটেই। সখ্যতা বাড়িয়েছেন আওয়ামী পন্থী সংগঠন গুলোর সকল নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সাথে। পাকপোক্ত করেছেন ক্ষমতার খুঁটি, বাড়িয়েছেন ঘুষ গ্রহণের পরিমাণও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজারহাটের এলজিইডি উপ সহকারী প্রকৌশলী : আব্দুল রশীদ মন্ডলের হাত দিয়ে প্রতি কাজের কনট্রাক এমাউন্ট এর উপর প্রায় দুই থেকে তিন পার্সেন্ট করে ঘুষ গ্রহন করেন অভিযুক্ত উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সোহেল রানা। প্রতিটি নির্মাণ কাজে দুর্নীতিপরায়ণ এই প্রকৌশলীর কমিশন বাণিজ্য বন্ধের দাবি তোলেন সাধারণ ঠিকাদাররা। রাজারহাটের ঠিকাদার আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, চাহিদা ভিত্তিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ৬৮লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে জোড়সয়রা হাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মান কাজে কমিশন দিতে রাজি না হওয়ায় তার বিল আটকে দেওয়া হয় এবং তার নায্য কাজের বিল আদায়ের জন্য ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়।
আরেক ঠিকাদার বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার স্যার যেভাবে আমাদেরকে হয়রানি করেন, তা মনে হয় বাংলাদেশের অন্য কোথাও হয় না। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট ছোট সমস্যা খুজে বের করেন এবং তিলকে তাল বানিয়ে প্রতিটি বিল থেকে ২-৩% টাকা হাতিয়ে নেন। ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস বিলের জন্য ঘুরতে হয়। একথাগুলো বললে ঠিকাদারদেরউ নানারকম হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। যে কারণে কেউ মুখ খোলে না'।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম একজন রাকিবুল হাসান রনি বলেন, ''আমাদের কাছে অনেক ঠিকাদার ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট বিদায়ের পর এমন ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ অপ্রত্যাশিত। আর তাছাড়া একজন ফ্যাসিস্ট সহযোগী প্রকৌশলী হয়ে বদলি আদেশের ১০মাস পরেও কোন ক্ষমতাবলে তিনি সেখানেই রয়ে গেছেন! তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি''
তিনি আরো বলেন খোলস পাল্টে বর্তমানে বিএনপি নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ার চেষ্টায় আছেন সোহেল রানা। কুড়িগ্রামেই থেকে যাওয়ার তদবিরের জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে কথা হলে রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা বলেন, আমার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় আমি আমার কর্মস্থল ত্যাগ করি নাই। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কেএম জুলফিকার আলী বলেন, দুর্নীতিবাজদের কোন ছাড় নেই। ঘুষ বাণিজ্যের প্রমাণ থাকলে তাকে আইনের আওতায় তুলে দিন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution