লাইফস্টাইল

চেষ্টা করে যাচ্ছেন অথচ ওজন কমছে না!

ডেস্ক   ঢাকা

২৪ জুন ২০২৪


| ছবি: সংগৃহীত

ছোটবেলা থেকেই শরীরটা একটু ভারি গোছেরই। এটা নিয়ে কখনোই বাড়তি চিন্তা মাথায় আসেনি অর্পার। কিন্তু ইদানিং আয়নার দিকে তাকালে নিজেকে দেখে নিজেরই অস্বস্তি হচ্ছে। আর তাতেই ওজন কমাতে একরকমের যুদ্ধ ঘোষণা করে ফেলেছে সে। কম খাওয়া, জিমে যাওয়া, বিকেলে হাঁটা সাধ্যমতো সব করে চলেছে। কিন্তু যেটুকু আশা করা হয়েছিল সে পরিমাণ ওজন কমছে না। আমাদের অনেকেরই এ সমস্যা হয়ে থাকে। ওজন কমানোর সব প্রচেষ্টা চালানোর পরও তেমন একটা ওজন কমে না। আসলে এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ। সূষম খাদ্যাভাস ছাড়াও একটা স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল তৈরি করে এগুনো জরুরি। চলুন জেনে নেই কী কারণে প্রত্যাশিত ওজনে পৌাঁছাতে পারছেন না আপনি।

১. মেদ ঝরানোর জন্য যে কোন খাবার নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খেতে হবে। পুষ্টিকর খাবার অবশ্যই খাবেন। তবে তার অর্থ এই নয় যে,  বাদাম,  গমের পাউরুটি, অলিভ অয়েল, ফল জাতীয় খাবার একগাদা খেয়ে নিলেন। কী খাচ্ছেন, তার ক্যালোরি কতটা তা জেনে তবেই খান।

২. দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অনেকে সকালের নাস্তা খাওয়া বাদ দেন।  এই না খেয়ে থাকার ফলে  না খাওয়ার ফলে শরীরের মেটাবলিজমের হার কমে যাচ্ছে। ফলে ক্যালোরি খরচও কম হচ্ছে। নিয়মিত সকালের নাস্তা করা এবং নির্দিষ্ট সময় পর কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া দরকার।

৩. ওজন কমানোর জন্য কোন খাবার কতটা খাবেন সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা খুব দরকার। প্রয়োজনে পুষ্টি  বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়ে আপনার শরীরের জন্য উপযোগী ডায়েট চার্ট তৈরি করে ফেলুন। সুষম খাদ্য তালিকায় ভারসাম্য তখনই আসবে যখন আপনার শারীরিক গঠন অনুযায়ী প্রোটিন তাতে থাকবে। তাই সব সময় নির্দিষ্ট মাপ মেনে খাবেন।

৪. আপনি কি কাজের ফাঁকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাবার খান? এই অভ্যাস একেবারেই ঠিক নয়। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাড়াতাড়ি করে খেলে ঠিকমতো হজম হয় না। খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখুন। আর আরাম করে বসে ধীরে-সুস্থে খান। এতে খাবার হজম হবে। শরীরে চর্বি জমতে পারবে না।

৫. ঠিকমতো ঘুম না হলেও স্থুলতার সমস্যা দেখা দেয়। দিনে কম করে ৭ ঘণ্টা ঘুম দরকার। ঘুমের মধ্যেই শরীরে নতুন এনার্জি তৈরি হয়। যার সাহায্যে আপনি পরের দিন আবার কাজ করতে পারেন। ঘুমের অভাব থাকলে ক্লান্তির কারণে আপনি ঠিক করে কাজ করতে পারবেন না। এছাড়াও ঘুমের অভাব ঘটলে শরীর ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

৬.আজকাল বাজারে অনেক ধরণের খাবার পাওয়া যায়। ওজন কমানোর সময় অনেকে প্রচুর পরিমাণে লো-ফ্যাট খাবার খান। কিন্তু স্থুলতা না কমার এটা একটি কারণ। এতে লো-ফ্যাট, লো-ক্যালরি থাকলেও রাসায়নিক উপকরণ থাকে। এই সব খাবারের পুষ্টিগুণ যেমন কম হয়, তেমনই সাধারণত এই সব খাবার অনেকটা খেয়ে ফেলার একটা প্রবণতা দেখা যায়। যা উপকারের বদলে অপকারই বেশি করে।

৭. শাকসবজির দিকে তাকালেই মনটা খারাপ হয়ে যায়? মনে হয় মুরগি, খাসি, গরুর মাংস না খেতে পারলে বেঁচে থেকে লাভ কি?  আপনার পক্ষে ওজন কমানো একটু কঠিন। ওজন কমাতে হলে মুখে লাগাম টানতেই হবে।  শাকসবজি এবং ফল পেট ভরা ভাবটা অনেকক্ষণ থাকে। বারবার  খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে। ওজন কমাতে দিনে অন্তত পাঁচ থেকে সাতবার ফল ও সবজি খেতে হবে।

49