বাংলাদেশ

পীরগাছা তিস্তার গর্ভে বিলীনের পথে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

রবিউল আলম বিপ্লব,পীরগাছা   রংপুর

১০ জুলাই ২০২৪


| ছবি: প্রতিনিধি

চার দিকে অথৈ পানি মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর তিনপাশে ভাঙন এসে ঠেকেছে ১০ মিটারে। বিদ্যালয় থেকে ভাঙন যখন ৫০০ মিটার দুরে ছিল, তখন থেকে প্রতিবছর বন্যার সময় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এতে নদীতে বিলীন না হলেও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যালয়টি। যেকোন সময় জিও ব্যাগ ধসে বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীনের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। এমনি একটি বিদ্যালয় রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের চর দক্ষিণ গাবুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ গাবুড়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা নদী। এ গ্রামটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি গড়ে ওঠেনি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এই গ্রামের তিন ভাগের দুইভাগ আগেই বিলীন হয়েছে তিস্তায়। বাকি অংশও ভাঙনের কবলে পড়ে ছোট হয়ে আসছে। এই গ্রামেই অবস্থিত চর দক্ষিণ গাবুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছিল। পরে স্থান পরিবর্তন করে বর্তমান স্থানে নতুন করে ভবন নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে আবারো বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন এখন বিদ্যালয়ের একদম কাছে এসে পৌঁছেছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও ভাঙন রোধে স্থানীয় বাসিন্দারা সেচ্ছাশ্রমে একটি বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। সেটিও তীব্র স্রোতের কারণে ধসে গেছে। তাই স্থানীয়রা নিজেরাই বাঁধটি রক্ষার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সময় মতো উদ্যোগ নিলে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাড়িঘরও রক্ষা পেত। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় প্রতিবছর ভাঙনের শিকার হচ্ছে নদী পাড়ের বাসিন্দারা। ছাওলার ১০নম্বর বোল্ডারের পাড় থেকে আরও তিন কিলোমিটার বোল্ডার দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে নদী শাসন করলে এ গ্রামগুলো রক্ষা হতো। কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে ১নম্বর ও ২নম্বর বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করলেও বাঁধের পূর্ব পাড়ের গ্রামগুলো বন্যা ও নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা। তাই প্রতি বছর নদী ভাঙনের ফলে পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে আসছে। এ অঞ্চলে গত ৫ বছরে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমিসহ প্রায় চার হাজার পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে মকবুল হোসেন, গনি মন্ডল, জাফর আলী, ছামাদ আলী, খয়বর আলী, কফের উদ্দিন, ছমের আলী, সজব উদ্দিন ও আনিছুর রহমানসহ বেশ কয়েক জনের বাড়িঘর।
কান্না জড়িত কণ্ঠে সজব আলী বলেন, হামার দিকে কাইও দেখে না। সময় মতো ব্যবস্থা নিলে ফির হামাক সউগ হারা নাগিল না হয়। তিস্তার মায়াও ছাইড়বার পাই না, ক্ষতিও সামলাবার পাই না।
নদী ভাঙনের শিকার স্থানীয় বাসিন্দা ছমের উদ্দিন বলেন, ভাঙন যখন একটু দূরে ছিল তখন উদ্যোগ নিলে হয়তো বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব ছিল। এ বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এখন ভাঙন কাছে আসার পর বালুর বস্তা ফেলার নামে সরকারি টাকা জলে ফেলা হয়েছে।
ছামাদ আলী বলেন, আমরা সেচ্ছাশ্রমে একটি বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করেছিলাম। গতকাল সেটি ধসে গেছে। আমরা চাই সরকারিভাবে বেড়ি বাঁধটি নির্মাণে সহযোগিতা করা হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন বলেন, ভাঙন বিদ্যালয়ের ১০মিটারের মধ্যে এসেছে। এখন জিও ব্যাগের কারণে বিদ্যালয়টি টিকে আছে। জিও ব্যাগ ধসে গেলে বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে পীরগাছা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, তিস্তার ভাঙন বিদ্যালয়টি কাছে এসেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ বছর নতুন করে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষায় বিগত বছরে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। আমরা খোঁজখবর রাখছি।
 

55