বাংলাদেশ

ভট ভট শব্দ শুনলেই ছুটে আসে বানভাসীরা

শাহাদত হোসেন মিশুক   গাইবান্ধা

০৯ জুলাই ২০২৪


| ছবি: প্রতিনিধি

ভট ভট শব্দ শুনলেই ত্রাণের জন্য ছুটে আসে নৌকার কাছে বানভাসী মানুষগুলো। আবার কেউ কেউ আছেন নৌকার দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে থাকেন। আবার অনেকেই আছেন নৌকা দেখলেই ছুটে কোমর পানি অতিক্রম করে আসেন এবং তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাত তুলে তাকিয়ে থাকেন কিছু পাওয়ার আসায়। এছাড়াও কেউ সাঁতরিয়ে, কেউবা কলার ভেলায় নৌকার কাছে আসার চেষ্টা করেন। আবার কেউবা হাত উঁচিয়ে ইশারা দিয়ে কাছে ডাকেন এবং তারা চিৎকার করে বলেন এদিকে আসেন ভাইয়েরা। এমনই দৃশ্য দেখা গেছে গাইবান্ধার সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকাগুলো ঘুরে। 
চার উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য মানুষ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আবার অনেকে বসে নদীর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। কোন নৌকা যেতে দেখলেই তারা ডাক দেয়, হাত ইশারা করে। নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছে জ্বালানি কাজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র। অনেক বাড়ীর পুরো ঘর ডুবে গিয়ে শুধু চালা ভেসে রয়েছে। আবার এমনও দেখা গিয়েছে স্রোতের টানে হেলে গেছে ঘরবাড়ি। কৃষকের ফসল ও জমি পানির নিচে।  
সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নের নিবাবগঞ্জ, কিশামত সদর, চরিতাবাড়ী, জিগাবাড়ী, তুলকবেলকা, উজানদেওয়ান, মাদারীপাড়া, তারাপুর ইউনিয়নের সাদুয়া, রাগব, কাপাসিয়া ইউনিয়নের বাদামের চর, লালচামাড়, কাজিয়ার চর, রানার চর, ক্যারানির চর, চর কালাইসোনা, হলদিয়া ও সাঘাটা ইউনিয়নের জুমারবাড়ী, গোবিন্দপুর, পশ্চিম গোবিন্দপুর, কানাইপাড়া, চিনিরপটল, হাসিলকান্দি ও দক্ষিণ সাথালিয়া গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের দুর্ভোগ ও দুর্দশার কথা।
বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৫৫) বলেন, ঘরোত হামার এক কমরের বেশি পানি উটচে, তাই বউ ও ছোল নিয়্যা আস্তাত ছাপড়া ঘর তুলি থাকোম। জমিত কাম করি সংসার চলতো, বন্যা হয়্যা তাও বন্ধ হয়্যা গ্যাছে। তিন হাজার ট্যাকা সুদের উপর নিচি। খ্যায়া না খ্যায়া দিন কাটে। 

আল আমিন মিয়া (৪৫) সকালে চিড়া-মুড়ি খাইচি, দুপুরে বিস্কুট খাইচি, রাতে আলু ভর্তা দিয়্যা ভাত খাইচি। একজন স্লিপ দিছিলো তাক নিবার যায়া খালি হাতত ফিরে আচচি। একবেলা খাই তো আরেক বেলা উপ্যাস থাকি। মানুষ ও গরু-ছাগলগুল্যা অসুসতো হবার নাগচে।

পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের সেমা বেগম (৩৫) বলেন, দুটা ব্যাটা ও দুটা বেটি নিয়্যা মানষের বাড়িত উটচি। ঘরোত যা জমা আছিলো, সব শ্যাষ হয়্যা গ্যাচে। এখন কষ্টো করি দিন কাটাবার নাগচি। তিনবেলার মদ্যোত দুইব্যালা খাই। আর এ্যাক বেলা চিড়া-মুড়ি খাই। সকালে উটি খাই, দুপুরে খাইনি, সন্ধ্যায় মসুর ডাল ভর্তা দিয়ে ভাত খাচি। হামরা এংক্যা করি চলতিছি। সুদের উপুর ট্যাকা নিচিল্যাম, সেটাও শ্যাস, আবার ট্যাকা নেওয়ার নাগবে। গরুগুলার খাবার কমি গেচে। ডাকাতের ভয়োত অ্যাত জাগি থাকি। পানি বেশি থাকায় ছোলগুলাক নিয়্যা ভয়োত থাকি। 

দক্ষিণ সাথালিয়া গ্রামের দিলবর মিয়া (৪০) বলেন, কাঁচা সবজি কেনার ট্যাকা না থাকায় খিচরি করি খাই। একবেলা চিড়া-মুড়ি ভিজি খাই তো আর এ্যাকবার উটি খাই। তামানবাড়ি পানি, হামার সব কাম বন্ধ। খুব কষটোত দিন কাটাবার নাগচি। পানিরকল ও পায়খানা পানিত ডুবি গেচে। গাও ধোয়া ও মলমুত্র ত্যাগে সমস্যা হবার নাগচে। পোকামাকড় ও সাপের ভয়োত আতোত ঘুমব্যার পাবার নাগচি ন্যা। 

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার চার উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের ৩৭৪২৮টি বেশি পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে এসব উপজেলায় ৩ হাজার ৫০ শুকনো খাবারের প্যাকেট ৩৮৫ মেট্রিক জি আর চাল ও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি সংস্থা, সেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠন বন্যার্তদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। 

কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৬৫ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তা বিতরণ করা হয়েছে। এনজিওরাও সহযোগিতা করেছে।  

ভট ভট শব্দ শুনলেই ছুটে আসে বানভাসীরা
 
ভট ভট শব্দ শুনলেই ত্রাণের জন্য ছুটে আসে নৌকার কাছে বানভাসী মানুষগুলো। আবার কেউ কেউ আছেন নৌকার দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে থাকেন। আবার অনেকেই আছেন নৌকা দেখলেই ছুটে কোমর পানি অতিক্রম করে আসেন এবং তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাত তুলে তাকিয়ে থাকেন কিছু পাওয়ার আসায়। এছাড়াও কেউ সাঁতরিয়ে, কেউবা কলার ভেলায় নৌকার কাছে আসার চেষ্টা করেন। আবার কেউবা হাত উঁচিয়ে ইশারা দিয়ে কাছে ডাকেন এবং তারা চিৎকার করে বলেন এদিকে আসেন ভাইয়েরা। এমনই দৃশ্য দেখা গেছে গাইবান্ধার সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকাগুলো ঘুরে। 
চার উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য মানুষ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আবার অনেকে বসে নদীর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। কোন নৌকা যেতে দেখলেই তারা ডাক দেয়, হাত ইশারা করে। নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছে জ্বালানি কাজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র। অনেক বাড়ীর পুরো ঘর ডুবে গিয়ে শুধু চালা ভেসে রয়েছে। আবার এমনও দেখা গিয়েছে স্রোতের টানে হেলে গেছে ঘরবাড়ি। কৃষকের ফসল ও জমি পানির নিচে।  
সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নের নিবাবগঞ্জ, কিশামত সদর, চরিতাবাড়ী, জিগাবাড়ী, তুলকবেলকা, উজানদেওয়ান, মাদারীপাড়া, তারাপুর ইউনিয়নের সাদুয়া, রাগব, কাপাসিয়া ইউনিয়নের বাদামের চর, লালচামাড়, কাজিয়ার চর, রানার চর, ক্যারানির চর, চর কালাইসোনা, হলদিয়া ও সাঘাটা ইউনিয়নের জুমারবাড়ী, গোবিন্দপুর, পশ্চিম গোবিন্দপুর, কানাইপাড়া, চিনিরপটল, হাসিলকান্দি ও দক্ষিণ সাথালিয়া গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের দুর্ভোগ ও দুর্দশার কথা।
বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৫৫) বলেন, ঘরোত হামার এক কমরের বেশি পানি উটচে, তাই বউ ও ছোল নিয়্যা আস্তাত ছাপড়া ঘর তুলি থাকোম। জমিত কাম করি সংসার চলতো, বন্যা হয়্যা তাও বন্ধ হয়্যা গ্যাছে। তিন হাজার ট্যাকা সুদের উপর নিচি। খ্যায়া না খ্যায়া দিন কাটে। 

আল আমিন মিয়া (৪৫) সকালে চিড়া-মুড়ি খাইচি, দুপুরে বিস্কুট খাইচি, রাতে আলু ভর্তা দিয়্যা ভাত খাইচি। একজন স্লিপ দিছিলো তাক নিবার যায়া খালি হাতত ফিরে আচচি। একবেলা খাই তো আরেক বেলা উপ্যাস থাকি। মানুষ ও গরু-ছাগলগুল্যা অসুসতো হবার নাগচে।

পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের সেমা বেগম (৩৫) বলেন, দুটা ব্যাটা ও দুটা বেটি নিয়্যা মানষের বাড়িত উটচি। ঘরোত যা জমা আছিলো, সব শ্যাষ হয়্যা গ্যাচে। এখন কষ্টো করি দিন কাটাবার নাগচি। তিনবেলার মদ্যোত দুইব্যালা খাই। আর এ্যাক বেলা চিড়া-মুড়ি খাই। সকালে উটি খাই, দুপুরে খাইনি, সন্ধ্যায় মসুর ডাল ভর্তা দিয়ে ভাত খাচি। হামরা এংক্যা করি চলতিছি। সুদের উপুর ট্যাকা নিচিল্যাম, সেটাও শ্যাস, আবার ট্যাকা নেওয়ার নাগবে। গরুগুলার খাবার কমি গেচে। ডাকাতের ভয়োত অ্যাত জাগি থাকি। পানি বেশি থাকায় ছোলগুলাক নিয়্যা ভয়োত থাকি। 

দক্ষিণ সাথালিয়া গ্রামের দিলবর মিয়া (৪০) বলেন, কাঁচা সবজি কেনার ট্যাকা না থাকায় খিচরি করি খাই। একবেলা চিড়া-মুড়ি ভিজি খাই তো আর এ্যাকবার উটি খাই। তামানবাড়ি পানি, হামার সব কাম বন্ধ। খুব কষটোত দিন কাটাবার নাগচি। পানিরকল ও পায়খানা পানিত ডুবি গেচে। গাও ধোয়া ও মলমুত্র ত্যাগে সমস্যা হবার নাগচে। পোকামাকড় ও সাপের ভয়োত আতোত ঘুমব্যার পাবার নাগচি ন্যা। 

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার চার উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের ৩৭৪২৮টি বেশি পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে এসব উপজেলায় ৩ হাজার ৫০ শুকনো খাবারের প্যাকেট ৩৮৫ মেট্রিক জি আর চাল ও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি সংস্থা, সেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠন বন্যার্তদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। 

কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৬৫ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তা বিতরণ করা হয়েছে। এনজিওরাও সহযোগিতা করেছে।  

34