


বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক আন্দোলনসহ রংপুরের বিভিন্ন সাংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের দাবিরমুখে ও অনিয়ম- দুর্নীতির অভিয়োগে রংপুর প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) প্রশাসকের দায়ীত্বভার গ্রহণ করেছেন সমাজেসেবা অধিদপ্তরের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ ময়নুল ইসলাম। তিনি বিকেলে এই দায়ীত্ব গ্রহণ করার সময় রংপুরের কর্মরত সকল সাংবাদিক ও পত্রিকার সম্পাদকগণকে সভা করে বিষয়টি অবহিত করেন।এ সময় তিনি বলেন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের রেজিষ্ট্রেশন আইন অনুসরন ও প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র করে রংপুর প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি সাংবাদিকদের স্মরন করিয়ে দেন রংপুর প্রেসক্লাব সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি রেজিষ্ট্রেশনকৃত সংগঠন। তাই নিয়মনীতি অনুসরন করে এর কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা থাকলেও তা হয়নি। এই অবস্থায় সমাজেসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি তিনি এই দায়ীত্ব¡ গ্রহণ করলেন। জানাগেছে, রংপুর প্রেসক্লাব ১৯৯১ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করে রেজিষ্ট্রেশন সংগঠন হিসেবে নথীভূক্ত হয়। এর পর থেকে প্রেসক্লাবের সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বৈষম্য করে আসছিল ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে রংপুরে বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক আন্দোলনের ব্যানারে এবং রংপুরে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনসহ সাংবাদিকরা আন্দোলন করে আসছিল। এরই ধারা বাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর একটি উচচ পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি প্রায় দেড়মাস ধরে তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান করে প্রেসক্লাবের আনিয়ম ও আর্থিক দুনীতির তথ্য প্রমাণ পান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জানুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তর রেজিষ্ট্রিশন আইনের আওতায় প্রেসক্লাবের বিদ্যমান নির্বাহী কিমিটি বরখাস্ত করে আদেশজারি করে।
এর পরে সমাজ অদিধপ্তর সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ ময়নুল ইসলামকে প্রশাসক নিয়োগ করে প্রসক্লাবের দায়ীত্ব গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
ওই নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও রংপুর প্রেসক্লাবের প্রশাসক রংপুরে কর্মরত সকল সাংবাদিক সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকগণসহ প্রেসক্লাবের বরখাস্তকৃত নির্বাহী কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি আবহিত করার জন্য নোটিশ প্রদান করেন।
এই খবর পেয়ে প্রেসক্লাবের বরখাস্তকৃত নির্বাহী কমিটির সদস্যরা প্রেসক্লাব থেকে চলে যান। পরে প্রেসক্লাবে শতাধিক সাংবাদিক, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রংপুরে কর্মরত সায়বাদিকসহ স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকগণের উপস্থিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ ময়নুল ইসলাম প্রেসক্লাবের প্রশাসক হিসেবে নিজের দায়ীত্ব সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি এসময় বলেন সংগঠনের গঠনতন্ত্রের যে সব অসংগতি রয়েছে তা প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা বিয়োজন করা হবে।
এ সময় তিনি ক্লাবের সম্পদের একটি তালিকা প্রস্তত করে ক্লাবের তালা লাগিয়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি একটি রুটিন প্রস্তুত করে ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং এ জন্য তিনি সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তাকে তার কাজের সাথে যুক্ত করবেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান। এর আগে নব নিযুক্ত প্রশাসক কয়েকজন নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে প্রেসক্লাব চত্বরে এসে পৌছলে শতাধিক গনমাধ্যম কর্মী তাকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসক্লাব ভবনে নিয়ে যান।