হাসপাতালে ভর্তি লিজার বাবা মতিয়ার অভিযোগ করে বলেন, নির্দেশিত গাইড বই না কেনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপার আনিসুর রহমান ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছয় শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে ডেকে আনেন। পরে তিনি বাঁশের বেত ও হাত দিয়ে শিক্ষার্থীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং দুজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাদের মধ্যে আমার মেয়ে লিজাও ছিল। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিভাবক আনিছুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমি মাদ্রাসায় যাই। দেখি, শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাদের মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে। পরে সবাইকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়িতে যাওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অভিভাবকেরা তাদের দ্রুত রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে দুই শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গাইড বই কেনার বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত সুপার আনিসুর রহমান তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরম ও পাতলা পায়খানার কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
এ বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সায়েকুল হাসান খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।