


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ বাঁশজানী সীমান্তের শূণ্য রেখায় ভারতীয় বিএসফ এর সিসি ক্যামেরা স্থাপন। এ বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। গত রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি ) দিবাগত রাত রাত দুইটার দিকে এই সিসি ক্যামেরা লাগানো হয় বলে জানিয়েছে ওই সীমান্তের লোকজন।
জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশজানি সীমান্তের আন্তর্জিাতীক সীমানা পিলার ৯ এস এর ৯৭৮ নম্বর সীমানা পিলারের পাশে শূণ্য রেখার একটি ইউক্লিপটাস গাছে রবিবার রাতে বাংলাদেশের দিকে তাক করে একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে ভারতীয় বিএসএফ ছোট গাড়ল ঝড়া ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে সোমবার সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি বিজিবেকে জানালে বিজিবি বিএসএফকে ডেকে এর কড়া প্রতিবাদ জানান এবং সিসি ক্যামেরা অপসারণ করতে বলেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ নিয়ে বিজিবি –বিএসএফের মধ্যে একাধিক আলোচনা হলেও ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায়নি বিএসএফ।
স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ বাঁশজানি ঝাকুয়াটারী সীমান্তে স্থাপিত ২শ বছরের পুরাতন আলোচিত দুই দেশের এক মসজিদটি পুন: নির্মাণ চলছে। এই মসজিদকে ঘিরে বিএসএফ মসজিদের সন্নিকটে রাতের আধাঁরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। যেটি আমাদের নিরাপত্তার সংকট সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ বাঁজানি ঝাকুয়াটারী জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন আলমগীর হোসেন জানান, আমাদের এই মসজিদটিতে ভারত–বাংলাদেশের মানুষ নামাজ পড়েন। মসজিদটি আমাদের পূর্বপুরুষ স্থাপন করেছেন। দেশভাগের সময় গ্রামের মাঝ দিয়ে সীমান্ত রেখা টানা হলেও আমাদের সম্পর্ক ভাগ হয়নি। তখন থেকে আমরা একসাথে একি মসজিদে নামাজ পড়ি। মসজিদটি পুরাতন হয়ে গেলে নুতুন করে স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে বিএসএসফ বাঁধা দেয়। তাদের বাঁধায় দুই বছর বছর থেকে মসজিদের কাজ বন্ধ রয়েছে। এবার রাতের আধাঁরে তারা সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে গেছে। এতে আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্ন হচ্ছে। বিজিবি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যেতে বললেও তা করেনি বিএসএফ।
কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবির পরিচালক লে: কর্ণেল মাসুদুর রহমান জানান, শূণ্য রেখায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে বিএসএফকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে, তারা ক্যামেরা অপসারণের আশ্বাস দিয়েছেন।