


দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো ভ্যান ও অটোর দখলে। নির্ধারিত কোনো স্থান না থাকায় এসব ব্যাটারিচালিত যানবাহন গুলো দখল করে নিয়েছে উপজেলার আজাদমোড়, গুচ্ছগ্রাম, রানীগঞ্জ ও হরিপাড়া বাজারের উপর দিয়ে চলে যাওয়া গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, বাড়ছে দুর্ঘটনা।
শনিবার (২২ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে মহাসড়ক দখল করে কোনো নিয়মনীতি না মেনে ব্যাটারিচালিত অটো ভ্যান, অটো রিকশা গুলো যাত্রী উঠানো ও নামানোর কাজে ব্যস্ত। বিশেষ করে, রানীগঞ্জ বাজারে কোন নিয়মকানুন ছাড়া সড়কে বেপরোয়া গতিতে প্রতিযোগীতা করে চলছে এসব ব্যাটারি চালিত অটো গাড়ি অটো রিকশা-ভ্যান। মহাসড়কের দুই পাশ দখল করে আছে ব্যাটারিচালিত এসব যানবাহন। এসব গাড়ীর বেশীর ভাগ চালক কম বয়সী কিশোর ও অদক্ষ। চালকের কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা লাইসেন্স নেই। অদক্ষ এসব চালকরা দেখে শুনে যানবাহন চালানো শিখলেও নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। ট্রাফিক আইন কিংবা সড়কের নিয়ম-কানুন মানছেন না এসব চালকরা। এতে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিরাপরাধ নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। ন্যায্য ভাড়া পরিশোধ করে যাত্রী সাধারণ সড়কে চলাচল করলেও অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকের কারণে যাত্রীরা প্রাণ দিতে হচ্ছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালক হওয়ায় সড়কে প্রতিযোগীতামুলক ভাবে গাড়ী চালাতে গিয়ে বেশীর ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে।
উপজেলার রাণীগঞ্জে ন্যাশনাল বিদ্যাপীঠ, আদর্শ বিদ্যাপীঠ, সেন্ট্রাল প্রি ক্যাডেট, রানীগঞ্জ সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ ও রানীগঞ্জ মহিলা কলেজ সহ আরও কিছু স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় এই উপজেলা সহ আশেপাশের উপজেলা থেকেও শিক্ষার্থীরা আশা যাওয়া করে। তারাও প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকবৃন্দ চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এছাড়াও রানিগঞ্জে উপজেলার বৃহৎ গরুর হাট হওয়ায় পাশের পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, হাকিমপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকেও অনেক মানুষ ব্যবসায়িক কাজে আসেন। ফলে সর্বদাই ব্যস্ত থাকে এ বাজার। ফলে কোনো ভাবেই এড়ানো যাচ্ছেনা ছোট বড় দুর্ঘটনা।
উপজেলার উত্তর দেবীপুর গ্রামের শিক্ষার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম জানায়, আমি রানীগঞ্জ সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র। বাইসাইকেল নিয়ে কলেজে আশা যাওয়ার সময় এ পর্যন্ত তিন বার অটো ভ্যানের সাথে আমার দুর্ঘটনায় ঘটে। এছাড়াও স্থানীয় অভিভাবক সাইফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, শত কর্ম ব্যস্ততার মধ্যেও আমি আমার মেয়েকে প্রাইভেটে দিয়ে আসি আবার নিয়ে আসি। যদিও এ সমস্ত যানবাহনের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে অনেক সুবিধা হয়েছে। কিন্তু যত্রতত্র অটো স্ট্যান্ড হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছেনা। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, অনেকবার উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। রানীগঞ্জ বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আমার দোকানে এ পর্যন্ত দুইবার মিনি ট্রলি ঢুকে গেছে। এর মূল কারণই হলো রাস্তা দখল করে থাকা ব্যাটারিচালিত যানবাহন। রাস্তায় পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে যায় আমার দোকানে।
ব্যাটারিচালিত যানবাহন চালকদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের উপার্জনের একমাত্র পথ এটি। আমাদের নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড করে দেওয়া হলে এই সমস্যা আর থাকবেনা। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি চালকরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, যারা ব্যাটারিচালিত অটো ও অটো ভ্যান চালায়, তারা মূলত: অসচেতন। চালক হতে গেলে যে ধরণের নিয়মনীতি জানা দরকার তারা তা জানেনা। এরা দেখে শুনে চালক হয়েছে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ তাদের নেই। ফলে যাচ্ছে তাই ভাবে যানবাহন চালায়। তিনি আরও বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে সব সময় তৎপর। এর আগেও বহুবার বিষয়টি নিয়ে সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আমরা এবার অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই বিশেষ অভিযানে নামবো।