


উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বর্তমানে তা ১৮ সেন্টিমিটার নিচে নেমে এসেছে। ডালিয়া ব্যারাজে খুলে রাখা হয়েছে ৪৪টি জলকপাট। সোমবার দুপুর ৩টার তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড হয়েছে ৫২.০০ মিটার, যা বিপদসীমার (৫২.১৫ মিটার) ১৫ সেন্টিমিটার নিচে। কাউনিয়া পয়েন্টে পানি রয়েছে ২৯.১২ মিটার, বিপদসীমা ২৯.৩০ মিটার থেকে ১৮ সেন্টিমিটার নিচে। অন্যদিকে ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে পানি রয়েছে ২৯.৭৮ মিটার, যা বিপদসীমা থেকে ১০৯ সেন্টিমিটার নিচে।
পাটগ্রাম পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার থেকে ৩৬৫ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।রবিবার সকাল থেকে তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সদর ও আদিতমারী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ৩০টিরও বেশি গ্রামে ঢুকে পড়ে নদীর পানি। ফলে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাতভর পানি প্রবেশের কারণে এসব এলাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশুদের খাবার, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং পশুর খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ধসে পড়েছে কিছু যাতায়াত সড়কও। কৃষি জমি ও মাছচাষে দেখা দিয়েছে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা। পানিবন্দি মরিয়ম বেগম বলেন, রাত থেকে ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, রান্নাঘরেও পানি।
সারাদিনও রান্না করতে পারিনি। গরুকে গাছের পাতা খাওয়াচ্ছি। সরকারিভাবে কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। আদিতমারী ভাদাই খোলাহাটি গ্রামের আমিনুল ইসলাম জানান, গরু ছাগল মসজিদের বারান্দায় রেখেছি। নিজে হোটেলে গিয়ে ১০ টাকা দিয়ে খেয়েছি। মেম্বার ফোন দিয়েছিল, যাচ্ছি দেখি কী দেয়! জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, হাতিবান্ধা ১৮০০ জন, কালীগঞ্জে ১০০০ জন, আদিতমারীতে ৪০০০ জন ও সদরে ১৫০০ জন। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ভারতের উজানে বৃষ্টিপাতের কারণে পানি বাড়ছে-কমছে। এখন পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শাহরিয়ার তানভীর আহমেদ বলেন, হাতীবান্ধায় দ্বিতীয় দফা পানির বৃদ্ধিতে ত্রাণ হিসেবে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী অন্যান্য উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হবে। এদিকে পানিবন্দি মানুষের দাবি, স্থানীয় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সামান্য সহায়তা ছাড়া এখন পর্যন্ত কেউ খোঁজ নেয়নি। একমাত্র কিছু সংবাদকর্মীই পানিবন্দি মানুষদের দুর্ভোগের চিত্র সংগ্রহ করছেন।
##