1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
জিআই স্বীকৃতি পেলো নেত্রকোনার 'বালিশ মিষ্টি' | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

জিআই স্বীকৃতি পেলো নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’

নিউজ ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩০ জন দেখেছেন

দীর্ঘ ১২০ বছরের স্বাদ ও ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেল নেত্রকোণার বিখ্যাত ‘বালিশ মিষ্টি’। সুস্বাদু ও বৈচিত্র্যময় এই মিষ্টান্নটি এখন দেশের ৫৮তম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করেছে। নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে এই মর্যাদাপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করে।

বালিশ মিষ্টির যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে নেত্রকোণা শহরের বারহাট্টা রোডে। ‘গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর স্বত্বাধিকারী গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এই বিশাল আকৃতির মিষ্টি তৈরি করেন। আকার ও আকৃতিতে অনেকটা বালিশের মতো হওয়ায় কালক্রমে এটি ‘বালিশ মিষ্টি’ হিসেবেই দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৬৫ সালে গয়ানাথ ঘোষ ভারতে চলে যাওয়ার সময় তাঁর বিশ্বস্ত কর্মচারী নিখিল চন্দ্র মোদকের হাতে দোকানের দায়িত্ব দিয়ে যান, যা আজও তাঁর উত্তরসূরিরা টিকিয়ে রেখেছেন।

বালিশ মিষ্টির বিশেষত্ব এর স্বাদ এবং পরিবেশনায়। এটি মূলত দুধের ছানা, চিনি ও সামান্য ময়দার মিশ্রণে তৈরি। ছানার মণ্ড দিয়ে বালিশের আকৃতি বানিয়ে তা চিনির গরম রসে ডোবানো হয়। এরপর দীর্ঘ সময় রসে ভেজার পর উপরে ঘন ক্ষীরের প্রলেপ দিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়। গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের বর্তমান কর্ণধার খোকন চন্দ্র মোদক বলেন, ‘জিআই স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের পরিবারের এবং পুরো নেত্রকোণাবাসীর জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়।’

নেত্রকোণার এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এখন আর শুধু জেলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। প্রবাসী নেত্রকোণাবাসীদের মাধ্যমে এটি পৌঁছে গেছে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেহমানদারি কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠানোর ক্ষেত্রে বালিশ মিষ্টি ছাড়া নেত্রকোণার আতিথেয়তা যেন অপূর্ণ থেকে যায়।

নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০২৩ সালে এই মিষ্টির জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় তথ্য ও মান যাচাইয়ের পর ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সরকারিভাবে এটি ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এর আগে ২০২১ সালে নেত্রকোণার দুর্গাপুরের ‘সাদামাটি’ জিআই স্বীকৃতি পেয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিআই স্বীকৃতির ফলে বালিশ মিষ্টির বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক প্রসারের সুযোগ তৈরি হবে এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )