


দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় শীতকালীন মৌসুমে পেঁয়াজ কন্দ থেকে বীজ উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের সহায়তায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই কার্যক্রম ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের কায়েমপুর সরিষা পাড়া এলাকার কৃষক তাইজ উদ্দিন এ উদ্যোগের অন্যতম অংশগ্রহণকারী।
চলতি শীত মৌসুমে তিনি নিজের জমিতে প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ কন্দ থেকে বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি তার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হলেও সরকারি সহায়তা ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি বেশ আশাবাদী। কৃষক তাইজ উদ্দিন জানান, আগে তিনি শুধু পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদন করতেন। এবার বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় বাজারে মানসম্মত বীজ সরবরাহের পাশাপাশি তার আয়ের সুযোগও বাড়বে বলে তিনি মনে করছেন। তিনি বলেন, “এবার প্রথমবারের মতো বীজ উৎপাদন করছি।
কৃষি বিভাগের পরামর্শে কাজ করছি। আশা করছি ভালো ফলন পাব।” উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে খানসামা উপজেলায় মোট ১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে উপজেলার ১০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করছেন। কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষককে ১৬০ কেজি পেঁয়াজ কন্দ, ২০ কেজি ডিএপি সার, ২০ কেজি এমওপি সার, বালাইনাশক এবং বীজ সংরক্ষণের পাত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে কৃষকদের বাইরের জেলার বীজের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং মানসম্মত বীজ সহজলভ্য হবে। বিশেষ করে তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ কন্দ বীজ উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ. ম. জাহেদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, “পেঁয়াজ কন্দ থেকে বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে মানসম্মত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। কৃষকদের মাঠে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ভালো ফলন পেতে পারেন। এই উদ্যোগ সফল হলে আরও অনেক কৃষক এতে আগ্রহী হবেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা এবং মানসম্মত বীজ উৎপাদনে উৎসাহিত করা। পেঁয়াজ কন্দ থেকে বীজ উৎপাদনের এই কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে তা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় কৃষি খাত শক্তিশালী হবে এবং কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।