
গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের মধ্য কচুয়া এলাকার মোকাররম হোসেন দানের মঞ্চে দামী জামাই পাওয়ার আকাঙ্খায় ভুয়া এনএসআই -এর খপ্পরে পরার ঘটনা খটেছে। প্রতিটি বাবারই স্বপ্ন থাকে মেয়েকে সৎ ও যোগ্য পাত্রের হাতে তুলে দেওয়া। আর সহজ – সরল মেয়ের বাবার সেই স্বপ্ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন আলমবিদিতর ইউনিয়নের সয়রাবাড়ি ফুলবাড়ি চওড়া এলাকার সাফুল মিয়ার ছেলে মো: লিওন মিয়া। বিবাহিত লিওন মিয়ার সংসারে স্ত্রী সন্তান থাকা সত্বেও ভুয়া এনএসআই পরিচয় পত্র তৈরী করে নতুন করে বিয়ে করেছেন মধ্য কচুয়ার মোকাররম হোসেনের মেয়ে মাহফুজা আক্তার রিয়া মনিকে । তার প্রকৃত এনআইডি কার্ড মোতাবেক নাম : মো: লিওন মিয়া, পিতা – মো: সাফুল মিয়া, মাতা – মোছা: লিপি বেগম জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৯৫৭৭২৪৭৭৩৮ কিন্তু, যে জাতীয় পরিচয় পত্র মোতাবেক নিজের এনএসআই পরিচয় পত্র তৈরী করেছেন সেখানে সে নিজের নাম উল্লেখ করেছেন মো :সম্রাট হোসেন সামিম, পিতা – মো : মতিউজ্জামান সাহেব আলী, মাতা – মৃত সাবিনা বেগম জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৯৫৮৮২৪৭৭৩৮।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,মোকাররম হোসেন তার জামাই এনএসআই অফিসার সেজন্য সে গর্ব করত। কিন্তু যেদিন লিওনের প্রথম স্ত্রী তার সন্তানসহ মোকাররম হোসেনের বাড়িতে এসে বাস্তবতা জানায় সেদিন থেকে লিয়ন মিয়া অর্থাৎ ভুয়া এনএসআই অফিসার সম্রাট হোসেন সামিম শ্বশুর বাড়ি আসা বন্ধ করে দেয়। লিওনের অপকর্ম এখানেই শেষ নয়, সংখ্যালখু পরিবারের জমি দখল করে বিক্রি করা, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং অনলাইন জুয়াসহ নানা অপরাধের সাথে লিয়ন মিয়া জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
১৮/০৮/২৬ ইং ভোরবেলা ঘটনাটির নাটকীয় মোড় সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। লিওনের দ্বিতীয় শ্বশুর মোসলেম মিয়ার বাড়ির পিছনের পুকুর পাড়ে হাত পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।পরে তাকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে। তবে অপরিচিত কে বা কারা লিওনকে অপহরণ করে হাত পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে গেছে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন হদিস পাওয়া যায়নি। লিওন তাদের কাউকে চিনতে পারে নাই। তবে তিনদিন আগে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে জ্বালাতন করায় লাবিব, রবিউল, শীতলও পায়েল তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয় এবং তাদেরকেই সে অপহরণকারী হিসেবে সন্দেহ করেন।
এ বিষয়ে লিওন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পরিচয় গোপন করে মাহফুজা আক্তার রিয়া মনিকে বিয়ে করাকে অন্যায় হিসেবে স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোকাররম কিংবা তার মেয়ে মাহফুজা আক্তার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। এবিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে এলাকার সচেতন মহলের অনেকেই বলছেন, মো: সাফুল মিয়ার ছেলে লিয়ন মিয়া শুধু মোকাররম হোসেনের সাথেই অন্যায় করেন নাই, তার মেয়ের জীবন নিয়ে যেমন ছিনিমিনি খেলেছেন, তেমনি সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার নাম ভাঙ্গিয়ে গুরুতর অপরাধ করেছেন বলে শাস্তির দাবি জানান তারা।
Related