গত ২১ অক্টোবর রাতে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ও আফিজ, আকিব ও নিবিড় বিড়ির সত্ত্বাধিকারী মীর কাশেম মিঠুর সাথে হারাগাছ পৌর এলাকার ফ্রেশ বিড়ির সত্ত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর ব্যবসায়ী জের এবং বিড়ি ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে ।
যদিও শুরুর দিকে প্রচারণা ছিল মাদকের বিরুদ্ধে কথা বালায় ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে তবে বাস্তবতায় দেখা যায় বিড়ি ব্যবসার আধিপত্যে নিয়ে দ্বন্দ্বের জের এবং রমজান আলী জিকুর মর্ণেয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার খবর যেন সেই দ্বন্দ্বকে আরো বেগবান করেছে।
সার্বিক কারণে গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যার আগে গজঘণ্টা বাজার এরশাদ মার্কেটের সামনে মীর কাশেম মিঠুর বিশেষ আস্থাভাজন গজঘণ্টা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য এবং বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া তার লোকজনসহ ফ্রেশ বিড়ির সত্ত্বাধিকারী রমজান আলী জিকু ও তার লোকজনের ওপর হামলা করে।
বাজারের লোকজন এসে উভয় পক্ষকে শান্ত করে।
জিকুর ওপর আকর্ষিক হামলাকে ঘিরে এলাকায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়লে জিকু ও তার লোকজন মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মীর কাশেম মিঠুর উপর হামলার উদ্দেশ্যে কামদেব শেখ পাড়া বিএনপি কার্যালয়ে হাজির হয় ।
এতে অফিসের চেয়ার ভাংচুর এবং মীর কাশেম মিঠুসহ চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কার্যালয়ে থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ছবি ভাংচুরের অভিযোগ রমজান আলী জিকুর বিরুদ্ধে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও কথোপকথন ইতোমধ্যে ছবি ভাংচুরের বিষয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে।
সেই ভিডিওতে জনৈক ব্যক্তিকে শান্ত পরিবেশে বলতে শোনা যায়, ” জিয়ার ছবি ভাঙি দেও ,খালেদার ছবি ছিড়ি দেও । তারেক জিয়ার ছবি ভাঙি দেও। “
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও এবং প্রত্যক্ষ দর্শীদের অনেকের বক্তব্যে ইতোমধ্যেই প্রতিপক্ষকে ওপর দলীয় কার্যালয় ও ছবি ভাংচুরের বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, মীর কাশেম মিঠু কী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করিয়ে নিজের বিড়ি ব্যবসার আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন নাকি সত্যি সত্যি রমজান আলী জিকু দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের প্রকৃত অপরাধী?
গজঘণ্টা এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে দুলাল মেম্বার তার লোকজনসহ গজঘণ্টা বাজারে জিকু ও তার লোকজনকে রাস্তায় আটকিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। বাজারের লোকজন এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী বিএনপির একান্ন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্য বদিয়ার রহমানের বক্তব্যে ঘটনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গন্ডগোলের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। মীর কাশেম মিঠুর সাথে জিকুর মাদক নিয়ে দ্বন্দ্ব নয়, মূল দ্বন্দ্ব বিড়ি ব্যবসা নিয়ে।
প্রথমে দুলাল মেম্বারসহ মিঠুর লোকজন জিকু ও তার লোকজনের ওপর গজঘণ্টা বাজারে হামলা করে পরে জিকু ও তার লোকজন এসে মিঠুর ওপর হামলা করে পার্টি অফিসের বাইরে । কিন্তু পরে মিঠুর লোকজন দিয়ে পার্টি অফিস ভাংচুর করে দায় চাপিয়ে দেয় জিকু ও তার লোকজনের ওপর।
গজঘণ্টা বাজারে হামলার বিষয়ে, সাবেক ইউপি সদস্য ও বর্তমান গজঘণ্টা ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন।
একই বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাশেম মিঠু দাবী করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং মাদক বিরোধী কথা বলায় আমিসহ তিজনকে আহত করা, পার্টি অফিস, সবেক রাষ্ট্রপতি , সবেক প্রধান মন্ত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের মূল কারণ।
এবিষয়ে রমজান আলী জিকুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার সাথে বিড়ি ব্যবসা নিয়ে পূর্ব থেকেই মতবিরোধ ছিল। আমি মর্ণেয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব এবং আমার জনপ্রিয়তা তার চেয়ে বেশি হওয়ায় আমাকে নিয়ে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে মীর কাশেম মিঠু।
তার সাথে আমার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থাকলেও আমি দলীয় কার্যালয় ভাংচুর কিংবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি , সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙি নাই। সে তার লোকজনকে দিয়ে দলীয় কার্যালয় ভেঙে আমার উপর দলীয় মামলা চাপিয়ে দিয়ে আমার ক্ষতি করার জন্য ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করেছে।
এবিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানা (ভারপ্রাপ্ত) অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি, তদন্ত শেষে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।