
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরি করে পালানোর সময় মাইকিং দিয়ে দুই চোরকে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় । রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণ পাড়া পুকুরখুড়ি ক্যানেলে এ ঘটনা ঘটে।
গণপিটুনিতে নিহত উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার মৃত এন্দাজ আলী ওরফে ভোদা চোরের ছেলে রেজাউল ওরফে কানা (৪২) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের ঘোনটারী এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৬)। রেজাউল এলাকার চিহ্নিত চোর এবং থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে তার বিরুদ্ধে ৯ টি মামলা রয়েছে। সাদিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা না থাকলেও পূর্ব থেকেই মাদকাসক্ত এবং ছোটখাট চুরির অভিযোগ রয়েছে।
অটো রিক্সাটি চুরি করে পালানোর সময় অটো মালিক বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মতিন মিয়ার সিদ্দিকুর রহমান সোহেল টের পেয়ে চিল্লাতে থাকে এবং অটোর পিছু পিছু দৌঁড়ালে নামাজরত মুসল্লিরা টের পেয়ে মসজিদের মাইকে চোর ধরার জন্য মাইকিং করে।
এসময় সোহেল অটোরিকশাটি আটকানোর চেষ্টা করলে চোরের হাতে থাকা প্লাস দিয়ে তাকে মারধোর করলে তিনি রাস্তায় পরে যায় এবং আহত হয়। একই ঘটনায় চোরাই অটো ও চোরকে ধরতে গিয়ে কছিম উদ্দিন ও নাসির উদ্দীন নামে আরো দুজন আহত হন।বর্তমানে সোহেল গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
চোর ধরার ঘটনায় আহত নাসির উদ্দীনের স্ত্রী খাদিজা বেগম জানান, আমার স্বামী গোয়াল থেকে গরু বের করে উঠানে বাঁধার জন্য বের হয়েছে এমন সময় দুজন অটো নিয়ে পালচ্ছিল। আমার স্বামী অটোটি আটকানোর চেষ্টা করলে তার কপালে আঘাত লাগে এবং কপাল ফেটে যায়।
স্থানীয় এনামুল হক ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন , চোরাই অটো নিয়ে পালানোর সময় তিনজনকে আহত করার পর এলাকার মানুষ চার দিক থেকে এগিয়ে আসলে নিরুপায় হয়ে ধাওয়া খেয়ে নিহত ওই দুই ব্যক্তি রাস্তায় অটোরিকশা রেখে ক্যানেল দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে উৎসুক জনতা তাদের ধরে গণপিটুনি দেয়া শুরু করে এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
গণপিটুনিতে নিহত সাদিকুলের স্ত্রী শারমিন বলেন, গতকাল রাতে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। আজ সকালে উঠে শুনি চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। কাঁদতে কাঁদতে শারমিন বলেন, চুরি করা অপরাধ কিন্তু মানুষকে মেরে ফেলা তো আরো বড় অপরাধ। আমি এই হত্যার বিচার চাই। আমার দুই সন্তানের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা চাই।
ঘটনার খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটির সুরতহাল সম্পন্ন করে থানায় নিয়ে আসে।
এবিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে মরদেহ দুটির সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল,রংপুর) শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলাম। নিহত দুজনের মধ্যে রেজাউলের বিরুদ্ধে অনেক মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা আছে এবং দুজনেরই অতীত ইতিহাসে চুরির ঘটনা পাওয়া গেছে। হত্যা মামলা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, চলতি মাসেই এই এলাকায় আটটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির ফলে চুরি ও ছিনতাই বেড়ে গেছে। তবে এলাকার সচেতন মহল বলছেন, চুরি যেমন অপরাধ, তেমনি বেআইনিভাবে কাউকে হত্যা করাও বড় অপরাধ। আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন চাই, চুরি ছিনতাই বন্ধ চাই।
Related