


মেডিকেল টিম আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর সর্বোচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “পিটিশনার (ইমরান খান) রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যা জানানোর পর তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সেই চিকিৎসা শুরুর পর থেকেই তার দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে। বর্তমানে তার দৃষ্টিশক্তির ৮৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে, মাত্র ১৫ শতাংশ টিকে আছে।”
গত অক্টোবর থেকে ইমরানের চোখের সমস্যা শুরু হয়েছে বলে উল্লেক করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ইমরান খানের আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্টের অ্যামিকাস কিউরি সালমান সাফদার প্রতিবেদনে বলেছেন, “তার চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। যখন আমাদের সঙ্গে তিনি কথা বলছিলেন, বারবার টিস্যু দিয়ে চোখ মুছছিলেন তিনি।”
সালমান সাফদার আরও জানিয়েছন, কারাগারে ইমরানকে নিজের আইনজীবী এবং পরিবারের নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ-কথাবার্তার অনুমতি দিয়েছেন— কিন্তু ইমরান খান আমাদের অভিযোগ করেছেন যে তাকে আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ- কথাবার্তার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, কিংবদন্তী ক্রিকেটার থেকে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খান সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর। তবে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের শীর্ষ নির্বাহীর পদে কে আরোহন করবেন— তা নিয়ে সেনবাহিনীর সঙ্গে দন্দ্বের জেরে সংকটে পড়েন তিনি। পরে ২০২২ সালের পার্লামেন্টের বিরোধী সদস্যদের অনাস্থাভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন।
এদিকে ক্ষমতা হারানোর পরপরই একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে। সেসব মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে আছেন তিনি।